ভারতে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের ডাক

ভারতে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের ডাক
বুধবার বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

‘নোটবন্দীর’ পর এবার ভারতের শাসনব্যবস্থায় ‘ভোট বন্দী’ চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং ভোটার তালিকায় ভোট চুরির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক রাজনৈতিক ও আইনি আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’।

বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেন, আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সব সাংসদ একজোট হয়ে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা পরিচালনা করবেন। এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।

মূলত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে জানান, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সন্দেহজনক অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ এবং একতরফা সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) কার্যালয়ের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরা। এর ধারাবাহিকতায় ৬ অক্টোবর সব বিরোধী এমপি একত্রিত হয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আগামী দুই মাসজুড়ে দেশব্যাপী বড় ধরনের জনসভা ও র‍্যালির আয়োজন করা হবে। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে একাধিক জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামী ১ নভেম্বর খোদ রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক বিশাল মহাসমাবেশ আয়োজন করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানান খাড়গে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত ও ব্যবহার করার বিষটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বিরোধী নেতারা। পাশাপাশি বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হবে বিরোধী জোট।

মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে শাসক দলকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে আনলেও সরকার বা প্রশাসন তাতে কান দেয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার প্রথমে নোটবন্দীর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল, আর এখন মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিতে ভোট বন্দীর পথ বেছে নিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালনা করার সময় কমিশনের অন্য দুই সদস্য–নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ইসিআইনেট প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয়করণ এবং ভোটারদের ‘ফর্ম ৬’-এ একতরফা পরিবর্তনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কমিশনের অন্দরের এই চরম মতভেদ ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র প্রকাশ্যে আসার পরই সুর চড়ায় বিরোধী শিবির।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা যে এখন রাজপথ থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত সর্বাত্মক লড়াইয়ে নামছে, খাড়গের এই কর্মসূচিতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad