প্রিয় পারসিয়ান বিড়ালটি হারিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন পাবনা শহরের এক গৃহবধূ। মাইকিং, পোস্টারিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েও যখন কোনো সুরাহা মিলছিল না, তখন শেষ ভরসা হিসেবে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। আর তাতেই মিলেছে সুফল! পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার হলো নিখোঁজ সেই পোষা বিড়ালটি।
বুধবার পাবনা সদর থানা পুলিশের উদ্যোগে শহরের একটি বাসা থেকে বিড়ালটি উদ্ধার করে মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর কাবলী মওলা রোডের বাসিন্দা রেজাউল করিমের স্ত্রী খুশি খাতুনের নিজ বাড়ি থেকে পারসিয়ান বিড়ালটি বাইরে চলে যায় এবং আর ফিরে আসেনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিড়ালটি হারিয়ে যাওয়ার পর আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এলাকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির পোস্টার লাগানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এর কিছুদিন পর ওমা খাতুন নামের এক নারী একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানান যে বিড়ালটি তার কাছে আছে এবং অসুস্থ হওয়ায় তিনি চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু খুশি খাতুন সঠিক ঠিকানা জানতে চাইলে ওই নারী ফোনটি বন্ধ করে দেন। এরপর বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন খুশি।
বুধবার শহরের একটি বাড়িতে বিড়ালটির সন্ধান মেলে। পরে সেটি উদ্ধার করে মালিক খুশির কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
ঘটনা প্রসঙ্গে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শহরের একটি বাসা থেকে বিড়ালটি উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এর প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বিড়ালটি ফিরে পেয়ে খুশি খাতুন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বিড়ালটিকে খুঁজেছি। বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর যখন জানতে পারলাম এটি একজনের কাছে আছে, তখন আশা জেগেছিল। পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমার বিড়ালটি ফিরে পেয়েছি এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
খুশি খাতুনের মেয়ে সাদিয়া করিম জানান, ‘এক বছর আগে এক আত্মীয় আমাদের পারসিয়ান বিড়ালের দুটি বাচ্চা উপহার দিয়েছিলেন। তখন থেকে আমরা লালন পালন করে আসছি। বিড়াল ছানা দুটি আমাদের খুব প্রিয় আর আপন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিড়াল গত ৩ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যায়। হারানোর পর আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। অবশেষে বিড়ালটি খুঁজে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত।’


