বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৮ আগস্ট। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি প্যানেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং গোলাম কিবরিয়া লিপু। অন্য প্যানেলে রয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম।
টাইমস অব বাংলাদেশ জানতে পেরেছে, দুই প্যানেলের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গুলশানে রোববার (২ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সভাপতি পদে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দেন খোরশেদ আলম খসরু। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে শামসুল আলমকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা হয় গোলাম কিবরিয়া লিপুর সঙ্গে। তবে উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে।
এই সমঝোতা বৈঠকের উদ্যোক্তা মো. ইকবাল টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে গুলশানে তার এক বন্ধুর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, খোরশেদ আলম খসরু, শামসুল আলম, গোলাম কিবরিয়া লিপু, জাহাঙ্গীর সিকদার ও মো. আতিকুর রহমান লিটন।
তবে মো. ইকবালের দাবি, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। শুরুতে একমত হলেও, শেষ পর্যন্ত আমার ‘সুন্দর সমঝোতা’ প্রস্তাবটি কেউ মানচ্ছে না। তাই আমি নিজেও এই নির্বাচন থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
এর আগে ইকবাল টাইমসকে জানিয়েছিলেন, বৈঠকে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হলেও পরে সাধারণ সম্পাদক পদে শামসুল আলমকে সমর্থন দিতে গোলাম কিবরিয়া লিপু আর রাজি হচ্ছেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মূলত এই কারণেই সমঝোতা উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ, একাধিক মামলা এবং আইনি জটিলতার কারণে টানা সাত বছর নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালের ২১ মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোটগ্রহণের দিন একই টিআইএনের আওতায় একাধিক ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। এবার ভোটাধিকার ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে একাধিক আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। নতুন নিয়মে একজন প্রযোজক যত চলচ্চিত্রই নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন।
২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন প্রথমে ১১ জুলাই হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ জন ভোটার ১৯টি পদের জন্য ভোট দেবেন। গত ৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৪০ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।
তবে বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পর খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, যে বিধান দেখিয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেটি ২০২৫ সালে কার্যকর হয়েছে। তাই চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ওই বিধান প্রয়োগ আইনসঙ্গত নয়। তারা বিষয়টিকে প্রতিহিংসামূলক বলেও দাবি করেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডে আবেদন করলে দুজনই প্রার্থিতা ফিরে পান। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের আইনি বাধা দূর হয়।


