পর্দায় কখনো অভিনয়শিল্পী, কখনো নির্মাতা। দুই ভূমিকাতেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন শামীম জামান। অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা এবার তিনি কাজে লাগিয়েছেন নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এক পাতিলের সংসার’-এ। নাটকটিতে যেমন অভিনয় করেছেন, তেমনি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন। তিন প্রজন্মের গল্পে নির্মিত এই ধারাবাহিককে ঘিরে তাঁর প্রত্যাশাও বেশ বড়। শামীম জামানের ভাষায়, যৌথ পরিবারের গল্প বলতেই এত বড় শিল্পীসমাবেশের প্রয়োজন হয়েছে। তিনি বলেন, “গল্পের গভীরতা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দক্ষ ও জনপ্রিয় শিল্পীদের যুক্ত করেছি। বাজেট কিছুটা কম থাকা সত্ত্বেও এমন একটি তারকাবহুল ধারাবাহিক নির্মাণ করার তীব্র ইচ্ছা থেকেই কাজটি করেছি।” অনেকেই নাটকটিকে একসময়কার জনপ্রিয় পারিবারিক ধারাবাহিকগুলোর আবহ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা…
Author: আহমেদ জামান শিমুল
গত বছর ‘তুফান’ মুক্তির পরপরই এর সিক্যুয়েলের ইঙ্গিত দেন নির্মাতা রায়হান রাফী। ছবির শেষ দৃশ্যেও রাখা হয় সেই আভাস। গেল বছরের জুনে বিদেশে মুক্তির প্রাক্কালে রাফী জানান, দ্বিতীয় কিস্তি দেখতে দর্শকদের অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে শাকিব খান তখন স্পষ্ট করে বলেন, পরের বছরই ‘তুফান ২’ আসার সম্ভাবনা নেই, কারণ একাধিক দেশে শুটিং করতে হবে এমন বড় পরিসরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। এর মধ্যে শাকিব খান ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাফীর সঙ্গেই আরেকটি সিনেমা ‘তাণ্ডব’ এবং মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘বরবাদ’ নিয়ে। ‘তুফান ২’-এর অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায় যে শাকিব খান শিডিউল না দেওয়ায় ছবিটি পিছিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে…
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে আবুল হায়াত এমন এক নাম, যিনি অভিনয়কে কখনো শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন জীবনচর্চা হিসেবে। প্রকৌশলী হয়েও তিনি বেছে নিয়েছিলেন অভিনয়ের পথ। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র মিলিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কাজ করছেন। ১৯৬৯ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রযোজনায় নির্মিত ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন ও মঞ্চে একসাথে আত্মপ্রকাশ করেন। ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তার অভিনয়জীবনের মাইলফলক হয়ে আছে। ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ আবুল হায়াতের অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে অভিনেতা হাসান ইমামের মাধ্যমে ঋত্বিক ঘটক যখন বাংলাদেশে ছবিটির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তার সঙ্গে পরিচয়।…
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে চলচ্চিত্রপাড়ায় জোর গুঞ্জন চলছে। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সভাপতি প্রার্থী সামসুল আলম এবং সহসভাপতি প্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের দাবি, আদালত অনুকূলে রায় দিলে নির্বাচনের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ নির্বাচন স্থগিত হতে পারে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচিত কমিটির হাতেই ছিল। তবে ২০১৩ সালের পর মাঝে স্বল্প সময়ের বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যকর নেতৃত্বের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। গত সাত…
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোট গণনা শেষ ফলাফল ঘোষণা করতে করতে শনিবার ভোর ৫টা বেজে যায়। এবারের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। বিজয়ের পর টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তারা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী দিনে সাধারণ শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিবা শানু। তিনি বলেন, যারা তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাদের এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা কীভাবে…
বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির জগতে মুস্তাফা মনোয়ার এক অনন্য নাম। সম্প্রতি তার মহাপ্রয়াণে শোকাতুর সাংস্কৃতিক অঙ্গন। গুণী টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব নওয়াজিশ আলী খান, যিনি ১৯৬৭ সাল থেকে টেলিভিশনের সাথে যুক্ত এবং মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, তার স্মৃতিতে উঠে এসেছে বিটিভির সেই সোনালী যুগের গল্প। নওয়াজিশ আলী খানের মতে, মুস্তাফা মনোয়ার কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির ধারক এবং আধুনিক প্রেক্ষাপটের গোড়াপত্তনকারী এক ব্যক্তিত্ব। করাচি টেলিভিশনে কর্মরত থাকাকালীনই নওয়াজিশ আলী খান তার নাম শোনেন। তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার তাকে বলেছিলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার হচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি শতাব্দীতে একবার জন্মায়”। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ, যাকে কখনোই…
বাংলা গানের অনন্য এক বটবৃক্ষ সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন ১ জুলাই। ১৯৪০ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মানুষটি ৮৬ বছরে পা রাখলেন। প্রায় ছয় দশক ধরে যার কণ্ঠ বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করে চলেছে, সেই জীবন্ত কিংবদন্তিকে সম্প্রতি বিশেষ সম্মাননা জানানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সৈয়দ আব্দুল হাদীর শৈশব কেটেছে একাধিক জনপদে ঘুরে ঘুরে। জন্ম আগরতলায়, বেড়ে ওঠা সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কলকাতায়, আর কলেজজীবন রংপুর ও ঢাকায়। বাবা সৈয়দ আবদুল হাই ছিলেন ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) কর্মকর্তা, গানও গাইতেন নিজে, আর গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শোনাটা ছিল তার প্রিয় শখ। বাবার সেই শখের সূত্র…
সংগীতের সার্বজনীন শক্তিকে উদযাপন করতে প্রতি বছর ২১ জুন পালিত হয় বিশ্ব সংগীত দিবস। ১৯৮২ সালে ফ্রান্সে শুরু হওয়া এ আয়োজন এখন বিশ্বের শতাধিক দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে। তবে উৎসবের এই আবহের মধ্যেই দেশের সংগীতাঙ্গনকে ঘিরে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উদ্বেগ। শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চার সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, রয়্যালটি বঞ্চনা এবং সংগীত শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন দেশের সংগীত অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চার ক্রমহ্রাসমান প্রবণতাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখছেন বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ৪০ বছর আগের শিল্পীরা শাস্ত্রীয় সংগীত জানতেন। এখন যারা আসছে তারা তো শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা পাচ্ছে না।…
১৯৬০ সালের ১৬ জুন। সাদাকালো পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু দর্শকদের ভয় পাইয়ে দেয়নি, বদলে দিয়েছিল বিশ্ব সিনেমার গল্প বলার ধরন। সেই চলচ্চিত্রের নাম ‘সাইকো’)। আর এর নির্মাতা ছিলেন কিংবদন্তি আলফ্রেড হিচকক । মুক্তির ৬৬ বছর পরও ‘সাইকো’ শুধু একটি হরর চলচ্চিত্র নয়; এটি চলচ্চিত্র ইতিহাসের এমন এক মাইলফলক, যার প্রভাব আজও বিশ্বজুড়ে নির্মিত থ্রিলার, সাসপেন্স ও হরর সিনেমায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ‘সাইকো’র আগে হরর সিনেমা মানেই ছিল ভূত, দানব, ভিনগ্রহের প্রাণী কিংবা অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির গল্প। কিন্তু হিচকক দেখালেন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়টি হয়তো মানুষের মনোজগতের গভীরেই লুকিয়ে থাকে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নরম্যান বেটস—একজন সাধারণ মোটেল মালিক। প্রথম…
বাদল রহমান একাধারে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র আন্দোলনকর্মী। ১৯৪৯ সালের ৪ জুন জন্মগ্রহণকারী এ গুণি মৃত্যুবরণ করেন ২০১০ সালের ১১ জুন। তার অনবদ্য সৃষ্টি ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। ১৯৮০ সালের ২৯ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। এ ছবির আগে বাংলাদেশে যে একদমই শিশুদের জন্য ছবি হয়নি তা নয়। তবে বলা হয়, এ ছবির হাত দিয়ে শিশুতোষ ছবির ধারা শুরু হয় বাংলাদেশে। আর এ ছবির পিছনের কারিগর বাদল রহমান। জার্মান লেখক এরিখ কাস্টনারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘এমিল আন্ড দি ডিটেকটিভ’ — ১৯২৯ সালে প্রকাশিত, পৃথিবীজুড়ে শিশুদের মনে জায়গা করে নেওয়া এক অ্যাডভেঞ্চার। সে উপন্যাস অবলম্বনে বাদল রহমান ছবি নির্মাণ করেন। ১৯৭৩…

