বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোট গণনা শেষ ফলাফল ঘোষণা করতে করতে শনিবার ভোর ৫টা বেজে যায়। এবারের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী।
বিজয়ের পর টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তারা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী দিনে সাধারণ শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিবা শানু। তিনি বলেন, যারা তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাদের এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা কীভাবে রাখবেন, সেটাই এখন তাকে বেশি ব্যাকুল করে তুলেছে। গলায় থাকা ফুলের মালা সরিয়ে রেখে তিনি বলেন, এই মালা পরার সময় এখনো হয়নি। শিল্পীদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারলেই তিনি তা পরবেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী তাদের নির্বাচনী প্যানেলের যাত্রার বিবরণ তুলে ধরেন। সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও কার্যকর কমিটি গঠনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা একটি সুন্দর পরিষদ গঠন করবেন। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের এবং তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে নিয়ে তারা এই যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে জানান তিনি।
প্যানেল গোছানোর পেছনের মানুষদের স্মরণ করে জয় চৌধুরী বলেন, সহযোগী হিসেবে সুব্রত পুরো টিম সাজিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন জ্যাকিও। নির্বাচনী লড়াই সহজ ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেষে দুই নেতা সাধারণ শিল্পীদের নিয়ে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পান ১৭৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোট দিয়েছেন। তার মধ্যে চূড়ান্ত গণনায় ৪১৬টি ব্যালট বৈধ এবং ৬৪টি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
সর্বোচ্চ ২৬০ ভোট এবং ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তবে এই পদে অভিনেত্রী রোজিনা এবং নূতন ১৫২ ও ২০৪ ভোট পান। সম্পাদকীয় প্যানেলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খানকে পরাজিত করে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্ন পেয়েছেন ১৮৩ ভোট।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১ ভোট পেয়ে এবং সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে কামরুজ্জামান কমল ২২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এদিকে সমিতির ১১টি কার্যকরী পরিষদ সদস্য হিসেবে ৩২৪ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক কায়েস আরজু। বাকি ১০টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে আলীবরাজ, নাসরিন, জেসমিন আক্তার, সুশান্ত, শিপন মিত্র, শামীম খান (চিকন আলী), রাকা, শিরিন শিলা, কাবিলা এবং ফরহাদ।


