জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে আবারও রোভার স্কাউটিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, আত্মিক বিকাশ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে স্কাউটিংকে যুক্ত করে কোর্সটি আধুনিক ও বিশ্বমানের করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে স্কাউটস ভবনে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির ১৫৬তম সভায় এ উদ্যোগের কথা জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষার সমন্বয় করে স্কাউটিং কোর্সকে নতুনভাবে সাজানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কাউটিং বিষয়ে এক ক্রেডিটের কোর্স চালুর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৈতিক শিক্ষা ও স্কাউটিংকে একীভূত করে কোর্সটির কাঠামো তৈরি করা যায় কি না এবং এর ক্রেডিট কত হবে, তা নিয়েও কাজ করা হবে।
স্কাউটিংকে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন উপাচার্য। তিনি জানান, ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপে’ স্কাউটদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে। একই সঙ্গে স্কাউটিংয়ের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান করতে ‘ভিজিবল স্কাউটিং’ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে স্কাউটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন উল্লেখ করে আমানুল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মুট, অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজনের পরামর্শও দেন তিনি।
স্কাউটিংয়ের সঙ্গে ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান উপাচার্য। থার্ড ল্যাংগুয়েজ শিক্ষার সঙ্গে স্কাউটিংকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের কার্যক্রমে একজন রোভার স্কাউটকে যুক্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনমুখী শিক্ষার অংশ হিসেবে স্কাউটিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিবছর ‘হ্যাপি লার্নিং ডে’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেন আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা ২ কোটি গাছ লাগাব। এই কর্মসূচিতে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করতে চাই।’ শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলো যাতে টিকে থাকে, সে জন্য পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও স্কাউটদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সরকারের পাশাপাশি সমাজহিতৈষী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে স্কাউটিংয়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের কমিশনার প্রফেসর খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের সহ-সভাপতি প্রফেসর মোহা. শহীদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম সেলিম চৌধুরীসহ নির্বাহী কমিটির ৩৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


