দেশের ব্যাংকিং খাতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে এসব ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেড়ে ৮৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংকে আমানত সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকটিতে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে ব্যাংকটি।
২০২৬ সালের জুলাই শেষে এনআরবিসি ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ হাজার ৭২ কোটি টাকা। এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
বিভিন্ন আর্থিক সূচকে সমসাময়িক ব্যাংকগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এনআরবিসি। সারাদেশে ব্যাংকটির ১০৯টি শাখা, ৪০০টির বেশি উপশাখা ও ৬২৯টি এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে। প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি প্লানেট অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি।
ঋণ বিতরণেও এগিয়ে রয়েছে এনআরবিসি। ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ব্যাংকটিতে তারল্য সংকট নেই। বরং উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংকের বড় শক্তি এর বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকরা দ্রুত ও নিরাপদে ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমানতসহ অন্যান্য আর্থিক সূচকে আমরা সমসাময়িক ব্যাংকগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর তুলনায়ও এগিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক।’
আমানতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এসবিএসি ব্যাংক। ব্যাংকটির আমানত ১২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। মধুমতি ব্যাংকের আমানত ১০ হাজার ৬০০ কোটি, মেঘনা ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি, এনআরবি ব্যাংকের ১০ হাজার ৪১৪ কোটি, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৯ হাজার ৩৭৮ কোটি, কমিউনিটি ব্যাংকের ৯ হাজার ৬০৯ কোটি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২ হাজার ৯০০ কোটি ও সিটিজেন্স ব্যাংকের ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।
এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাইনুল কবির বলেন, ‘গ্রাহকের আস্থাই একটি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমানতের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, স্বচ্ছতা ও মানসম্মত ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই আস্থা আরও সুসংহত করতে কাজ করছে ব্যাংকটি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে অধিকাংশ চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক আমানত সংগ্রহে ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপ দেওয়া ও গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


