চট্টগ্রাম বন্দরনগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কদমতলী। একদিকে টাইগারপাস, অন্যদিকে নিউ মার্কেট, আরেকদিকে পতেঙ্গা ও বন্দরমুখী ব্যস্ত সড়কগুলোর সংযোগস্থলে অবস্থিত কদমতলী মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।
কিন্তু এই চলমান চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততার মধ্যে কদমতলী রেলক্রসিং এখন এক অনাকাঙ্ক্ষিত যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেনের হর্ন বাজলেই শত শত যানবাহন এই মোড়ে থেমে যায়, শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা ও তীব্র যানজট। অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এখন এ এলাকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। ট্রেন আসার আগে সংকেত দেওয়া হলেও অধৈর্য চালকদের অনেকেই তা উপেক্ষা করে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকেরা ট্রাফিক আইন অমান্য করে বিপরীত বা ভুল লেন দিয়ে ঢুকে পড়ায় মুহূর্তেই প্রধান সড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

তার ওপর ক্রসিংয়ের মুখেই গড়ে ওঠা অবৈধ হকারদের দোকান এবং অস্থায়ী মিনিবাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড সড়ককে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে। ফলে যানবাহন ক্রসিংয়ে পৌঁছানোর আগেই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। এই ক্রসিংয়ে প্রতিদিনই যেন ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই চলে। ব্যারিয়ার নামিয়ে দেওয়ার পরও পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকেরা নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেন, যা প্রায়ই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে টাইগারপাস বা নিউ মার্কেটমুখী গণপরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন সংকটাপন্ন রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও এই যানজটে আটকা পড়ে।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন অসংখ্য আন্তঃনগর, লোকাল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে প্রতি ঘণ্টায় একাধিকবার দীর্ঘ সময়ের জন্য রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার নামিয়ে রাখতে হয়। এতে স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

এ পথে অত্যধিক ট্রেন চলাচলের কারণে সড়ক ব্যবহারকারীদের অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত আধুনিক নগরী চট্টগ্রামের জন্য কদমতলী ক্রসিংয়ের এই স্থবিরতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ভুক্তভোগীদের মতে, ক্রসিং এলাকায় কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ডিজিটাল সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা হলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কদমতলীতে একটি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যথায়, আটকে থাকা চাকার মতোই এই পথে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনও স্থবির হয়ে থাকবে। এ নিষ্ক্রিয়তায় নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা, প্রচুর মানুষের নানান সুযোগ হাতছাড়া হওয়া, এবং ঝুঁকিতে থাকা অগণিত মানুষের জীবনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাওয়া মানুষের জীবনের মূল্য—এতটাই বেশি যে, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক হৃদয় চট্টগ্রামের এই সমস্যাকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


