সাভারে বিস্ফোরক উদ্ধার: নব্য জেএমবি সদস্য আরিফ ৬ দিনের রিমান্ডে

সাভারে বিস্ফোরক উদ্ধার: নব্য জেএমবি সদস্য আরিফ ৬ দিনের রিমান্ডে
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

সাভারে নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগ এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, আরিফ নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বাহাজউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল সিটিটিসি। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজন সদস্য বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার উদ্দেশ্যে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় অবস্থান করছেন।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভারের বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে আটক করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আটকের পর আরিফের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, একটি পাইপ বোমা তৈরির স্টিল পাইপ, চাপাতি, সুইচ গিয়ার নাইফ, ব্যাটারি ও একটি নকিয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ মিশ্রিত কটন বার, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া ওই বাসা থেকে জিহাদসংক্রান্ত কয়েকটি বই উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও কয়েকজনের নাম-ঠিকানা এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ ও তার সহযোগীরা নব্য জেএমবির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টা করছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, ঘটনার মূলহোতা, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরিফকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টার অভিযোগ এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সিটিটিসির এসআই আলমগীর হোসেন বুধবার সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় আরিফ ওরফে ইমরানের পাশাপাশি আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—সাভার শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আব্বাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০)।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad