রাজধানীর ভাটারা থানায় বিষপানে ফিরোজা আশরাফী নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।
বরখাস্ত এসআই (নিরস্ত্র) জামাল হোসেন, নারী কনস্টেবল শারমিন এবং নাছিমাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন বিষপান করেছিলেন ফিরোজা আশরাফী। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফিরোজা আশরাফীর সঙ্গে তার স্বামী ইসমাঈল সুজনের দাম্পত্য কলহ চলছিল। আশরাফী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকতেন এবং তার স্বামী থাকতেন পল্লবীতে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেন আশরাফীএবং পরে নিজেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন স্বামীর স্বজনরা। সেখানে আশরাফীর সাথে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভাটারা থানায় নিয়ে যায়।
ওসি মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘পুলিশ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ওই নারীকে আটক করে। যেহেতু ঘটনাটি ভাটারা থানাধীন ছিল না, তাই আশরাফীকে থানার হাজতে না রেখে নারী ও শিশু ডেস্কের সামনে দুই নারী কনস্টেবলের পাহারায় রাখা হয়।’
‘ফিরোজা আশরাফীর ওষুধের কথা বলে কৌশলে নিজের কাছে থাকা লিকুইড জাতীয় বিষ (এভোকাট) পান করেন। দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভাটারা থানায় ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ আইনে একটি মামলা হয়েছে। আশরাফী অনলাইনের মাধ্যমে ওই বিষ কিনেছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। বিষ বিক্রেতা ও আশরাফীর কথোপকথনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।


