এক অনন্য ও স্বতন্ত্র পথচলা

এক অনন্য ও স্বতন্ত্র পথচলা
জনি ডেপ। ইলাস্ট্রেশন: অভি/টাইমস
Advertisement
Advertisement

কিছু শিল্পী আছে যারা শুধু জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটেন না, তৈরি করেন স্বতন্ত্র পরিচয়— জনি ডেপ, তেমনই একজন। ১৯৬৩ সালের ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে জন্ম নেওয়া জনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা। ক্যারিয়ারে তিনি যেমন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি লড়াইয়ের কারণে থেকেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। তবু একটি বিষয় নিয়ে প্রায় সবাই একমত—প্রচলিত হলিউড নায়কদের ছকে তিনি কখনোই নিজেকে বন্দি রাখেননি।

অভিনেতা হওয়ার আগে জনি ডেপের স্বপ্ন ছিল একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী হওয়া। কৈশোরেই তিনি স্কুল ছেড়ে দেন এবং বিভিন্ন ব্যান্ডে গিটার বাজাতে শুরু করেন। সেই সময় অভিনয়কে তিনি পেশা হিসেবে ভাবেননি।

ডেপের জীবনের মোড় ঘুরে যায় অভিনেতা নিকোলাস কেজের সঙ্গে পরিচয়ের পর। ১৯৮৪ সালে ‘এ নাইটমেয়ার অন এলম স্ট্রিট’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। তবে তার প্রথম বড় পরিচিতি আসে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’-এ।

তিনি সচেতনভাবেই মূলধারার সুদর্শন নায়কের চরিত্র এড়িয়ে গেছেন। বরং অদ্ভুত, একাকী, মানসিকভাবে জটিল কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন চরিত্রগুলোর প্রতি ছিল তার আগ্রহ। এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পরিচালক টিম বার্টনের ‘এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস’, ‘এড উড’, ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি’, ‘সুইনি টড’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে।

জনি ডেপের ক্যারিয়ারের কথা বলতে গেলে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। এ চরিত্রটির জন্য প্রথম অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন। শুধু তাই নয়, চরিত্রটি দ্রুত পপ সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। হ্যালোউইন পোশাক থেকে শুরু করে ভিডিও গেম, থিম পার্ক কিংবা ইন্টারনেট মিম—সবখানেই জায়গা করে নেয় জ্যাক স্প্যারো।

আরও পড়ুন

ক্যারিয়ারে জনি ডেপ তিনবার একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি ‘সুইনি টড’-এর জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন। যদিও অনেকের মতে, তার অভিনয় প্রতিভার তুলনায় প্রাপ্ত পুরস্কারের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রক কিংবদন্তি অ্যালিস কুপার ও জো পেরির সঙ্গে ‘হলিউড ভ্যাম্পায়ার্স’ নামে সুপারগ্রুপ গঠন করেন।

জনি ডেপের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং পরবর্তী আইনি লড়াই। মামলা-পরবর্তী সময়ে জনি ডেপ ধীরে ধীরে অভিনয়ে ফিরে আসেন।

২০২৩ সালে ফরাসি ভাষার চলচ্চিত্র ‘জ্যানি দ্যু বারি’-তে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে পুনরায় আলোচনায় আসেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তুলনামূলকভাবে ছোট কিন্তু শিল্পমানসম্পন্ন চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছেন। অনেকের মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

তার ক্যারিয়ারে সাফল্য আছে, ব্যর্থতা আছে, বিতর্ক আছে। কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—জনি ডেপ হলিউডের সবচেয়ে স্বতন্ত্র এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের একজন, যার মতো আরেকজন খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad