বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী।
সোমবার দুপুরে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলাটি করেন স্নিগ্ধা।
ওসি বলেন, মামলার একমাত্র আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে স্নিগ্ধা চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশের কাছে দাবি করেছেন, মামলা করার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। পুলিশ তাকে কোনোরকম সহযোগিতা করছে না। তার মৃত্যু হলে দায়ী থাকবে আশিয়ান গ্রুপ ও নজরুল ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করেন। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও মারধর করা হয় এবং তার পায়ের নখ তুলে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের চুক্তি স্বাক্ষরের প্রলোভন দেখিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
স্নিগ্ধা চৌধুরীর ভাষ্য, ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি ব্যবস্থা নেননি। পরে খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, পুরো অভিযোগই মিথ্যা এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা এই অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সময় স্নিগ্ধার মা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মদ্যপ ছিলেন বলে দাবি করেন নজরুল। স্নিগ্ধা ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এসেছিলেন বলেও দাবি তার।
উল্লেখ্য, স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।


