কবিতা, সুর ও গানে যেন ফিরে এলেন রবীন্দ্রনাথ

কবিতা, সুর ও গানে যেন ফিরে এলেন রবীন্দ্রনাথ
সংগীত পরিবেশন করছেন মিশকাতুল মুমতাজ মুমু। ছবি: টাইমস 
Advertisement
Advertisement

সন্ধ্যাটি ধীরে ধীরে এক অনন্য আবহে মূর্ত হয়ে উঠেছিল। সুর, কবিতা আর আবেগের মেলবন্ধনে মনে হচ্ছিল যেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আবারও ফিরে এসেছেন। চট্টগ্রামে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার গান, ভাবনা ও দর্শন আরও যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

‘উইথ টেগোর: আ মিউজিক্যাল ইভনিং অব রবীন্দ্রসংগীত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ-এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মিশকাতুল মমতাজ মুমু।

তবে এটি শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান ছিল না। প্রতিটি গানের আগে মুমু গানটির সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। বর্ণনা ও আবৃত্তির মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সামনে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিজগতের গভীরতর রূপ উন্মোচন করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে রবীন্দ্রসংগীত, সাহিত্য ও দর্শনের এক মনোজ্ঞ পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে প্রেম, প্রকৃতি, বিরহ, মানবসম্পর্ক, আধ্যাত্মিকতা, আশা এবং আত্ম-অনুসন্ধানকে উপজীব্য করে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশিত হয়। এসব পরিবেশনা রবীন্দ্রনাথের সংগীতভাণ্ডারের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধিকে নতুনভাবে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরে। একই সঙ্গে ঋতুবৈচিত্র্যের সৌন্দর্য, মানবমনের জটিল অনুভূতি এবং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে নিহিত চিরন্তন প্রজ্ঞারও প্রতিফলন ঘটে।

আরও পড়ুন

রবীন্দনাথ ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত

আয়োজকদের মতে, রবীন্দ্রনাথ এক শতাব্দীরও বেশি আগে গানগুলো রচনা করলেও সেগুলো আজও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়। তার লেখা গান, ভালোবাসা, বেদনা, আশা এবং জীবনের অর্থের অনুসন্ধানের শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একই মানবিক অনুভূতির বন্ধনে যুক্ত করে চলেছে।

অনুষ্ঠানটি ছিল মিশকাতুল মমতাজ মুমুর তৃতীয় একক রবীন্দ্রসংগীত সন্ধ্যা। তার সঙ্গে তবলায় সুশান্ত কর চৌধুরী, এসরাজে রেজাউল করিম রেজু, কিবোর্ডে কাঞ্চন দাস, বাঁশিতে সুজন দাস, পারকাশনে সালাউদ্দিন মো. রুবায়েত এবং বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাস ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দর্শক-শ্রোতারা শুধু কিছু স্মরণীয় গান নিয়েই ফিরে যাননি; বরং সুর, কবিতা এবং চিরন্তন মানবিক অনুভূতির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad