শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া ৩য় দফার আলোচনা নয়: ককরোচ পার্টি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া ৩য় দফার আলোচনা নয়: ককরোচ পার্টি
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ। ছবি: এনডিটিভি
Advertisement
Advertisement

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া সরকারের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা আলোচনার কথা রয়েছে সিজেপির। তবে তার কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে সংগঠনটি।

দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, সরকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে প্রস্তুত না হলে নতুন কোনো আলোচনার অর্থ নেই।

রাঙ্কা লেখেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো আপস হবে না। সরকার এতে রাজি না হলে আর আলোচনা হবে না।’

আরও পড়ুন

এর আগে শুক্রবার বিকালে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সেখানে তারা সিজেপির দাবিগুলো নিয়ে সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার বিকালে আবার তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার কথা জানিয়েছিলেন।

ককরোচ জনতা পার্টির মূল তিনটি দাবি হলো- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এগুলো হলো- আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।

দ্বিতীয় দফার ওই বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা বলেন, ‘বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে। তাদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারে পাঁচটি প্রস্তাব ছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা করে শনিবার বিকালে আবার তাদের সঙ্গে দেখা করব এবং সিদ্ধান্ত জানাব।’

এদিকে আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে আপসহীন বলে ঘোষণা করলেও সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, মন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের মতে, ‘পদত্যাগ নেওয়া সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। তবে সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পাশে রয়েছে।’

সরকারের একটি সূত্র এনডিটিভিকে বলেছে, ‘জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে এবং আমরা তা পালন করব।’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অনশন কর্মসূচি। ছবি: এএনআই

অবশ্য শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঠেকাতে গত দুই দিনে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর বিচারের জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধনের পরিকল্পনাও করছে সরকার। সংশোধনের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সচিবকে সরিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা আয়োজক সংস্থা- জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই সংস্থাটির সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বিষয় বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আমরা আবারও একই কথাই বলছি। চূড়ান্ত দায় শিক্ষামন্ত্রীর, কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সব ঘটনা এবং জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য তিনিই সরাসরি দায়ী। তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad