গুণীজনদের সম্মান দিলে জাতি হবে মর্যাদাবান: মঈন খান

গুণীজনদের সম্মান দিলে জাতি হবে মর্যাদাবান: মঈন খান
Advertisement
Advertisement

দেশের গুণী ও কৃতী ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান জানাতে পারলে বাংলাদেশ একটি গর্বিত ও মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান।

তিনি আগামী দিনে জাতীয় জীবনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সম্মানিত করার আহ্বান জানান।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাক ও দিনকালের সাবেক সম্পাদক আখতার উল আলমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এই স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপাচার্য আব্দুল লতিফ মাসুম।

আখতার উল আলমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, একসময় দেশে সত্য কথা লেখা সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সে সময় আখতার উল আলম ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।

‘লুব্ধক’ শুধু একটি ছদ্মনাম ছিল না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক সাহসী কৌশল ছিল। সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তার লেখায় উদারচিন্তা ও বাস্তববোধের প্রতিফলন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, কূটনীতি এবং বৈদেশিক অর্থনীতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লিখতেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আখতার উল আলমকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী থাকতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের দৃঢ়চেতা একজন মানুষ, যিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হননি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও আখতার উল আলম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সফলতার সঙ্গে সে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।

১৯৩৯ সালে রংপুরের মিঠাপুকুরে জন্ম নেওয়া আখতার উল আলম সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।

স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের জন্য অসামান্য অবদান রাখা বহু বরেণ্য ব্যক্তিকে আমরা যথাযথভাবে স্মরণ করি না। তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শন করা উচিত।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো জাতীয় নেতাদের স্মরণে কি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় আয়োজন হয়? কেবল আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না।

যে জাতি তার বীর ও পথপ্রদর্শকদের স্মরণ করতে পারে না, সে জাতি সঠিক পথে অগ্রসর হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের মহৎ মানুষদের জীবন, সংগ্রাম ও অবদান তুলে ধরতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মরণ ও গবেষণার জন্য একটি পৃথক সংগঠন গঠনেরও দাবি জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জাতীয় পর্যায়ে একটি তথ্যভাণ্ডার গঠনের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দেশের কৃতী ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস ও কৃতী ব্যক্তিদের অবদান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad