জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ফেরিডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ রোববার আরও ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে ১৮ জন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স কেবল ১ বছর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছর বা তার কম।
জিম্বাবুয়ের সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা (আরআইডিএ) পরিচালিত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরিটি গত মঙ্গলবার উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী বিশাল এই কৃত্রিম হ্রদে এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ফেরি দুর্ঘটনা।
জিম্বাবুয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচদিন পর রোববারও উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফেরিটিতে ১৫৩ জন যাত্রী ছিলেন। অথচ ফেরিটিতে সর্বোচ্চ ৯০ জন যাত্রী বহনের অনুমতি ছিল। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য এখনো অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরির অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী স্থানীয় গ্রামবাসী ও মাছ ব্যবসায়ী। পুরোনো এই ফেরিটি কারিবা শহর থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত ও মাছ ধরার এলাকার দিকে যাচ্ছিল। ওই অঞ্চলের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা সীমিত।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রওনা দেওয়ার পরপরই নৌযানটিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল। তারা চালককে তীরে ফিরে যেতে বললেও তা শোনা হয়নি।
কারিবা হ্রদ আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে বিশাল জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়। হ্রদটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং কোনো কোনো স্থানে এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া দুই দেশই কারিবা হ্রদের অংশীদার। দুই দেশের সীমান্ত হ্রদটির মাঝ বরাবর দিয়ে গেছে।


