ঢাকার শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী আশিকুর রহমান ও দেবর সাইফুল ইসলামকে (২৪) হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার আসামি দুজনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন তালুকদার। তাদের মধ্যে আশিকুর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ সময় সাইফুলকে হাজতে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আশিকুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে সাইফুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তৈয়বুর রহমান।
শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন।
এর আগে, সোমবার বিকালে পঞ্চগড়ের হাড়িভাঙা ইউনিয়নের বুকধুলিপাড়ার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলায় বলা হয়, ২০১৯ সালে প্রেম করে পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ে করেন আশিকুর এবং মাহফুজা। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
গত ১ নভেম্বর থেকে মালিবাগের বকশিবাগে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ওই দিন সাইফুল বাসা থেকে তার ভাতিজাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচর নিয়ে যায়।
পরে ৩ নভেম্বর রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মাহফুজাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা নুরুল হক খান।
মরদেহ গুম করতে বস্তাবন্দি করে পর দিন দুপুর ১২টার দিকে পালিয়ে যান আসামিরা। মাহফুজার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ডাকতে থাকেন।
এ সময় তারা দরজায় ধাক্কা দিতে থাকলে এক পর্যায়ে খুলে যায়। পরে প্লাস্টিকের বস্তা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে থানা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন নুরুল হক।


