বাংলাদেশি সুতার বাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রপ্তানিমুখী নিট ও পোশাক শিল্পের ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক প্রতিনিধি সভায় প্রস্তাব ঘিরে মতভেদের কারণে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদের সামনে তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
বিটিএমএ-র প্রস্তাবগুলো হলো আমদানি করা সুতার ওপর সেফগার্ড ট্যারিফ আরোপ, দেশীয় সুতার ব্যবহারে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া এবং রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু সুতা বন্ড সুবিধার এইচএস কোড থেকে প্রত্যাহার করে নিট পোশাকে কটন ও অন্যান্য মিশ্র সুতার আমদানি নিষিদ্ধ করা।
সভায় উপস্থিত বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ নেতারা সেফগার্ড ট্যারিফ আরোপ এবং বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দুটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন
তারা বলেন, এসব সিদ্ধান্ত রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় ধাক্কা লাগার ঝুঁকি তৈরি করবে, কারণ বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা বৈশ্বিক বাজারে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে থাকে।
নেতারা আরও বলেন, কাঁচামালের সরবরাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরাসরি রপ্তানিকারকদের ক্ষতি না করে কীভাবে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়েই আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে সুতা রপ্তানি করে। ভারত তার মোট সুতা রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ বাংলাদেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে করে। অথচ বাংলাদেশ কেন বিদেশে সুতা রপ্তানি করতে পারছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মত দেন তারা।
একই সঙ্গে ভারতের টেক্সটাইল শিল্প কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছে, সে বিষয়েও গবেষণার তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, গত ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সুতা আমদানি কমেছে, যার অর্থ সামগ্রিকভাবে সুতা ব্যবহারের পরিমাণ কমে দেশীয় সুতার মজুত বেড়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সরকার যদি চূড়ান্ত রপ্তানির ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ প্রণোদনা দেয়, তাহলে কর আদায়, অন্যান্য আয়, রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সরকার প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব পেতে পারে।
তিনি বলেন, এতে দেশীয় স্পিনিং শিল্প এবং ছোট ও মাঝারি নিট গার্মেন্টস খাত সুরক্ষা পাবে এবং রপ্তানিও বাড়বে।
বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ প্রতিনিধিরা প্রণোদনা সংক্রান্ত এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে বিটিএমএ’র দুই প্রতিনিধি বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বন্ধের পক্ষে মত দেন।
সভায় রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর কাছে তাদের অবস্থানের পক্ষে তথ্য–উপাত্ত জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় এবং এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালিম রহমান, সহসভাপতি শেহাব উদ্দুজ্জামান চৌধুরী, পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন, নাফিস–উদ–দৌলা ও রূপা গ্রুপের শহীদ আহমেদ।
বিটিএমএ’র পক্ষে ছিলেন শামীম আহমেদ, মো. বাদশা মিয়া, মখলেসর রহমান, খোরশেদ আলম, শহীদ আলম ও সালেহুদ জামান।


