ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনরত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তারা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের জাহিদ হাসান জয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীর রুম্মানুল ইসলাম রাজ।
রোববার রাত পৌনে বারোটার দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহপাঠীরা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। চিকিৎসক এনে তাদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাত ১২ টায় শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন উপাচার্য শওকত আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ সময় শিক্ষকরা অনশন ভাঙার আহ্বান জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ভিসি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘৫ আগস্ট এর পর থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদযুক্ত করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন চালিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন ও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।’
‘১৭ দিন আগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও এখনও তারা কোনো বৈঠকই করতে পারেনি’, বলেন তিনি।
সুমন অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকে আমরণ অনশনে থাকা আমার তিন ভাই গুরুতর অসুস্থ হয়েছে। তাদের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতেও ৪০ মিনিট দেরি করেছে প্রশাসন।’
তার হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের ভাইয়ের কিছু হলে এই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নতুন বিপ্লব শুরু হবে।’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন ইসলাম বলেন, ‘রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ আইনই নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এর থেকে আর কোন প্রতারণা হতে পারে না।’
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিকের অভিযোগ, ‘গেল এক বছরে তামাশা করেছে প্রশাসন এবং সরকার। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি ছিল ৯ দফায়ও। কিন্তু লেজুর ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি দিয়ে রেখে কায়দায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার অসৎ উদ্দেশ্যেই সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
এ সময়ে সুস্থ হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নিলে তারও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে ৪০ মিনিট পর চিকিৎসক এনে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্যালাইন দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য শওকত আলী বলেন, ‘আজকে সারাদিন শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসায় আমিও দুপুরের খাবার খাইনি। এ পর্যন্ত বাসায় যাইনি। শিক্ষার্থীদের রেখে আমি কিভাবে বাসায় গিয়ে ঘুমাবো?’
তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় কথা বলেছি। সাতজন কমিটিতে আছেন। আমাকে বলা হয়েছে দশ দিনের মধ্যে নির্ভুলভাবে আইটি সঠিক করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে আমিও একমত। আমি নিজেই সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংযুক্ত করার জন্য কমিটি করে চিঠি দিয়েছি। সেটি আমলে নিয়ে লিগ্যাল ভেটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারি হলেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করব।’
ভিসি বলেন, ‘সংসদ না থাকলেও কিভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করা হয়েছে সেটি প্রাক্তন প্রশাসন উত্তর দিতে পারবে। আমি ভিসি হওয়ার পর যে টাকা আদায় করা হয়েছে, এটি আমি আলাদা একাউন্টে রেখে দিয়েছি।’


