দুদকের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শাজাহান খান ও তার ছেলেকে

দুদকের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শাজাহান খান ও তার ছেলেকে
আদালতে শাজাহান খান। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয় কোটি ৮৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল।

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দেয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে দুদক যে অভিযোগ এনেছে তা সত্য নয়। একটি ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেই ফ্ল্যাটটি ব্যাংক লোনের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। সেই ফ্ল্যাটের মূল্য তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার বৈধ সম্পদের পরিমাণ দেড় কোটি টাকা। সেই টাকার ট্যাক্স ২০১২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত দিয়ে আসছেন।’

এদিন অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকরা শাহজাহান খানের কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনসিপিকে নিয়ে কি বলব? তারা জামায়াতের সঙ্গে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।’

এদিকে দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। মামলায় আসিবুর রহমানের পাশাপাশি তার বাবা শাজাহান খানকেও আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এজাহারে বলা হয়, আসিবুর রহমানের নামে তিন কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং সাত কোটি ছয় লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা। এর বাইরে পারিবারিক ও অন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে এক কোটি তিন লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে এসব সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে নয় কোটি ৮৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়, শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে ওই সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এজাহার অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান শেষে ওই মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। দুদকের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad