রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার পর উপাচার্য এই সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২কে আহ্বায়ক করে কমিটিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কাজী মামুন হায়দার।

আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পাব, এটাই আশা। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান আছে, তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।’

তিনি আরও বলেন, তদন্তে দোষী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার এবং তাদের নাম উল্লেখ করে মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়াও হবে।

আরও পড়ুন

এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনের সামনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এসময় তারা ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা করে গ্রেপ্তার করা, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আজকের মধ্যেই সাময়িক বহিষ্কার করা, আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

এছাড়া হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করায় প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং এ ছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ করতে হবে।

পরে রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।

সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন এর মধ্যে একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ করেছে এবং বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য তিন দিন সময় নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনকে তিন দিন সময় দিয়েছি। এই তিন দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংবাদ সাংবাদিকরা কভার করবেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad