হলিউডে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ১১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ওয়ার্নার ব্রো’স ডিসকভারিকে অধিগ্রহণ করেছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। দুই বড় স্টুডিও একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন এক বিনোদন জায়ান্ট, যা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং ব্যবসায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন প্রতিষ্ঠানটির নাম হবে স্কাইড্যান্স করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ডেভিড এলিসন। তার প্রতিষ্ঠিত স্কাইড্যান্স এর আগে প্যারামাউন্ট ও পরে ওয়ার্নার ব্রো’স ডিসকভারির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়, এই একীভূতকরণের ফলে একই ছাতার নিচে আসছে এইচবিও, সিবিএস, নিকেলোডিয়ন, শোটাইম, কমেডি সেন্ট্রাল, ডিসি স্টুডিওস ও ফুড নেটওয়ার্কের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। পাশাপাশি প্যারামাউন্টের হাতে যাচ্ছে হ্যারি পটার, গেম অফ থ্রোনস ও লর্ড অফ দ্যা রিংস-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা। এর সঙ্গে প্যারামাউন্টের আগের ইন্ডিয়ানা জোনস, মিশন ইম্পওসিবল ও শ্রেক-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিও থাকছে।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এলিসন এটিকে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, দুই ঐতিহ্যবাহী স্টুডিওকে একত্র করে আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তিটিকে ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
নতুন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের দায়িত্ব পেয়েছেন ম্যাটেলের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইয়োন ক্রেইজ। তিনি সহ-প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে এলিসন কৌশল ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবেন।
সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে থাকছেন বিবিসির সাবেক মহাপরিচালক মার্ক থম্পসন। সিবিএস নিউজের প্রধান সম্পাদক হিসেবে থাকছেন বারি ওয়েইস। এইচবিও ও ম্যাক্সের কনটেন্ট বিভাগের নেতৃত্বে থাকা ক্যাসি ব্লয়স নতুন প্রতিষ্ঠানের কনটেন্ট বিভাগের সহ-চেয়ারম্যান ও প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা হয়েছেন।
তবে এত বড় একীভূতকরণের সঙ্গে খরচ কমানোর চাপও থাকছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যয় কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে কনটেন্ট নির্মাণেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই চুক্তির পথ অবশ্য মসৃণ ছিল না। প্রথমে ওয়ার্নার ব্রো’স ডিসকভারির একটি অংশ কেনার চুক্তি করেছিল নেটফ্লিক্স। পরে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স পাল্টা প্রস্তাব দিলে শুরু হয় দর-কষাকষি। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায় নেটফ্লিক্স।
চুক্তি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীরা মামলা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, একীভূতকরণের ফলে প্রতিযোগিতা কমবে, ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে এবং সিনেমা হল ও পরিবেশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। গত মাসে অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে প্যারামাউন্টের সমঝোতার পর চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পথ তৈরি হয়।
সমঝোতার অংশ হিসেবে সিএনএন ও সিবিএস নিউজে স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে একটি ‘নিউজ এডিটোরিয়াল ইন্ডিপেনডেন্স বোর্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্যারামাউন্ট।
এ ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে হবে। কম বাজেটের বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ঠেকাতে চুক্তিতে রাখা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কোটা রাখা হয়েছে।
হলিউডের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের দুই স্টুডিওর এই একীভূতকরণ তাই শুধু ব্যবসায়িক মালিকানা বদল নয়; সিনেমা, টেলিভিশন ও স্ট্রিমিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।


