রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শরৎকে বরণ করে নিয়েছে ছায়ানট।
শুক্রবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
‘যোগ দে রে আজ সমান তানে’ শিরোনামে ছায়ানট ও সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় যৌথভাবে এ আয়োজন করে। সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এক্সেল একাডেমি ও নালন্দা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরাও পরিবেশনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ গানের সঙ্গে দলীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গান করেন, আর নৃত্য পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা।

এরপর নালন্দা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথের ‘আলোর অমল কমলখানি’ গানের সঙ্গে দলীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে আবৃত্তি করেন কবির ‘শরৎ (আজি কি তোমার মধুর মূরতি)’ কবিতা। মেহেরীন ফাতেমা পরিবেশন করেন ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’ এবং সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু গেয়ে শোনান কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভোরের ঝিলের জলে’। এ পর্বে সুনির্মল বসুর ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতার দলীয় আবৃত্তিও ছিল।
এক্সেল একাডেমির শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথের ‘দেখো দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি মেলি চায়’ গানের সঙ্গে দলীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অরুণাভ দে গেয়ে শোনান ‘তোমার মোহন রূপে’ এবং ইপ্সিতা সিকদার পরিবেশন করেন ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’।

সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের ‘কোন খেপা শ্রাবণ ছুটে এলো’। পার্থিব সাহা গেয়ে শোনান ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল, কেমন ভুল’। এরপর ইজমির মুস্তাফিজ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের ‘শরৎ (এসেছে শরৎ, হিমের পরশ)’। ছায়ানটের শিল্পীদের সঙ্গে অঙ্কিতা সরকার পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। এ পর্বে নজরুলের ‘কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’ কবিতার দলীয় আবৃত্তিও ছিল।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথের ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’ সম্মিলিতভাবে পরিবেশন করেন। এরপর বেধন কুণ্ডুর পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’ এবং সার্থক সাহার কণ্ঠে নজরুলগীতি ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’ পরিবেশিত হয়। দিব্যোময় দেশ গেয়ে শোনান অতুলপ্রসাদ সেনের ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’।
ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ গানের সঙ্গে দলীয় সংগীত ও নৃত্য। প্রেমা দেওয়ানজী পরিবেশন করেন ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ এবং শতদ্রু সরকার গেয়ে শোনান ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’।
শেষ পর্বে রবীন্দ্রনাথের ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ গানের সঙ্গে দলীয় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংগীতশিল্পীরা এবং ছায়ানটের নৃত্যশিল্পীরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের সংগীত ও সাহিত্য ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট।
শরৎ উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন হবে শনিবার সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে। এতে সেন্ট গ্রেগরিজ ও নালন্দা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ছায়ানটের শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেবে। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হতে যাওয়া এ অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


