জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আমির হোসেনের স্ত্রী আননী।
তার অভিযোগ, তার স্বামীকে পুলিশ ও বিজিবি গুলি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গুলি আমিরের মাথার পেছন দিক দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বের হয়ে যায়। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আননী জবানবন্দি দেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হন আমার স্বামী আমির হোসেন। নামাজের পর তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হাসান নামে একজন বাড়িওয়ালাকে ফোন করে জানান, আমির রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আননী জানান, ওই সময় তারা পশ্চিম উলনে থাকতেন। তার বাবা ও ভাই আমিরকে দেখতে বেটার লাইফ হাসপাতালের উদ্দেশে বের হওয়ার আগেই এলাকার লোকজন তাকে বাসায় নিয়ে আসেন। তখন তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তাতেই আমিরের মৃত্যু হয়েছে।
জবানবন্দিতে আননী জানান, তিনি তার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুনেছেন, একটি গুলি আমিরের মাথার পেছন দিক দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বের হয়ে যায়। তার স্বামী বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ হন বলেও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
আননীর অভিযোগ, তার স্বামীকে পুলিশ ও বিজিবি গুলি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, আমিরকে গুলি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রেদোয়ান ও রাফাত ছিলেন। এ ছাড়া আরও দুজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম তিনি উল্লেখ করেন মশিউর রহমান ও রাশেদুল।
আননী আরও বলেন, ওই দিন গুলিতে আরও একজন রিকশাচালক মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। জবানবন্দিতে আননী তার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চান।
এ মামলার দুই আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, ঘটনার সময় বিজিবিতে ছিলেন। চার আসামির মধ্যে এই দুজনই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন; এ ছাড়া, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক।


