বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে এক ক্যারিয়ার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘গ্লোবাল সাউথ–জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ (জিএস-জেটিআই)’ শীর্ষক এই অন-ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমইটিআই) উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশটির আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান প্রযুক্তি প্রতিভার সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির। এরপর জিএস-জেটিআই সচিবালয়ের প্রতিনিধি তাতসুয়া ইয়ামাদা কর্মসূচি এবং জাপানে কাজের সুযোগ নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মামুন-অর-রশিদ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যাডোরা ইঙ্ক, এ-ওয়ান রোড, অ্যাস্টার, এডব্লিউএল, ক্যাপার, গ্রিন কার্বন, জেএসএ এবং নোয়ালজি। এসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইনে শিশু সুরক্ষা, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দুর্যোগ সহনশীলতা, এজ এআই, কার্বন প্রকল্প ও সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তিসহ আধুনিক প্রযুক্তি খাতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে ইন্টার্নশিপের ধরন, যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান। আয়োজকরা জানান, এই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাঁদের তাত্ত্বিক জ্ঞান বাস্তব শিল্পসমস্যায় প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ভালো পারফরম্যান্স করা ইন্টার্নদের জন্য ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূল সেমিনার দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়। এর আগে সকালে জাপানি প্রতিনিধিদলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাদান ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণার ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়া হয়।


