জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হ্রদটি থেকে শনিবার পর্যন্ত আরও একাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জিম্বাবুয়ের সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা (আরআইডিএ) পরিচালিত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরিটি গত মঙ্গলবার উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী বিশাল এই কৃত্রিম হ্রদে এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ফেরি দুর্ঘটনা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার রাতে পুলিশ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে, ১৫ আগস্ট রাতে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর এই নৌ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৭২-এ পৌঁছেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ফেরির অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী স্থানীয় গ্রামবাসী ও মাছ ব্যবসায়ী। নৌযানটিতে সর্বোচ্চ ৯০ জন যাত্রী বহনের অনুমতি ছিল। অথচ দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, পাঁচজন ক্রু এবং অজ্ঞাতসংখ্যক শিশু সওয়ার ছিল। জিম্বাবুয়ের বেসামরিক সুরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত সেনা ইউনিটের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি জানান, শীতের তীব্র ঠান্ডার কারণে মরদেহগুলো পানির ওপরে ভেসে উঠতে সময় লাগছে। তবে দ্রুততম সময়ে বাকি সব মরদেহ উদ্ধারের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রওনা দেওয়ার পরপরই নৌযানটিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল। তারা চালককে তীরে ফিরে যেতে বললেও তা শোনা হয়নি।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী চান্স সিয়ামাভু (৪৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, নৌযানটি উল্টে যাওয়ার পর মানুষ লাইফ জ্যাকেট পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। তবে অনেকে জ্যাকেটের সঠিক ব্যবহার না জানায় শেষ রক্ষা হয়নি।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত লেক কারিবা জলধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। এই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে রাজধানী হারারে থেকে ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কারিবা শহরে শোক ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।


