রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। কিন্তু স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে আসামিদের খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে ২০ জনের বিষয়ে পূর্ণ প্রতিবেদন এলেও অন্যদের বিষয়ে প্রতিবেদন আসেনি।
এ ছাড়া প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু ও আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাককে হাজির করা হয়নি। তাই পরবর্তী শুনানির সময় প্রয়োজন।
শুনানি উপলক্ষ্যে রোববার আসামি দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য দুই আসামি হাসানুল হক ইনু ও আব্দুর রাজ্জাককে পরবর্তী তারিখে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে এ মামলার পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি জেনোসাইড (গণহত্যা)। এটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের একটি বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিশুসহ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়।
এ মামলায় পলাতক ৩১ আসামি হলেন শেখ হাসিনা, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ওরফে এস এম জাহিদ, ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান এবং বিএম ফরমান আলী।
প্রসিকিউশনের দাবি, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সমন্বিতভাবে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে। ঘটনার পর দায়ের করা মামলার কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি এবং বহু চেষ্টা সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি।
প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন।
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি হেফাজতের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।


