রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৮ আগস্ট জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাকে এজলাসে ওঠানো হয়নি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আব্দুল ওয়াদুত আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে পুলিশ জানায়, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেন। এই নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে গত ১৫ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, লিনার সঙ্গে হাসিবুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার আগের রাতে অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তার দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে লিনা তার বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন।
বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে তিনি জানান, তার ওপর রাগ করে লিনা গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক লিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম ভাটারা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলা করার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসুন্ধরা এলাকা থেকে হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


