ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের দেশটির বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার দক্ষিণ ইরানে নৌবাহিনীর জাহাজসহ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। এসব হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ওই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের কাজ করছিল। প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ রাখার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এমন সময়ে ইরানে নতুন হামলা হলো, যখন ইরানের শীর্ষ আলোচক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনার বিষয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবেই” এগোচ্ছে। হয় এটি সবার জন্য একটি বড় চুক্তি হবে, নইলে কোনো চুক্তিই হবে না।’
এর কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় দেশটিতে নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিনস বলেন, ‘চলমান যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংযম বজায় রেখে আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করে যাচ্ছে।’
এরপর ইরানও জানায়, নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা একটি ‘শত্রু’ স্টেলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল কিংবা কারা হামলা করেছে তা জানানো হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে ফারস নিউজ জানায়, ‘এটি আমাদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা যে পারস্য উপসাগরের আকাশে আর কোনো স্টেলথ ড্রোন অনুপ্রবেশ করতে পারবে না।’
আঞ্চলিক উত্তেজনার আরেক ইঙ্গিত হিসেবে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে হামলা জোরদার করবে ইসরায়েল। এর পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকা এবং অন্য এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামোয় হামলা চালানো হচ্ছে।
নতুন এই হামলার আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই শান্তি চুক্তির বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতির আশা কমিয়ে দেয়। দুই পক্ষই নিজ নিজ শর্তে অটল থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীশান্তি ও ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি টালমাটাল অবস্থায় রূপ নেয়।
ভারত সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান বিষয়ে “অন্যভাবে” ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র “কূটনীতিকে” সফল হওয়ার সব সুযোগ দেবে।’
‘হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলাচলের উপযোগী করা, পারমাণবিক বিষয়ে বাস্তব, গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সীমাবদ্ধ আলোচনায় প্রবেশ করা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বেশ শক্তিশালী একটি প্রস্তাব আছে। আশা করি আমরা এটি করতে পারব’ যোগ করেন তিনি।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ইসরায়েল-লেবাননও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এরপরও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এসব হামলা আত্মরক্ষামূলক। অবশ্য হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে ওই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিল না।


