গ্যাস সংকটে বন্ধ প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন

গ্যাস সংকটে বন্ধ প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন
Advertisement
Advertisement

গ্যাসের তীব্র সংকটে টানা ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম প্যারাসিটামল কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম। এতে ইতিমধ্যে প্যারাসিটামলের প্রায় ৫৫ টন কাঁচামাল কম উৎপাদন হয়েছে।

গাজীপুরের এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানে প্যারাসিটামলের কাঁচামাল সরবরাহ করে।

সরেজমিনে টঙ্গী বাজার হোন্ডা রোডে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ইউনিটের বয়লার বন্ধ। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়ে আছে। কাঁচামালের গুদামও প্রায় ফাঁকা। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কার্যত অলস সময় পার করছেন।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ টন প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন করা হয়। কিন্তু গত ১৫ দিনে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রায় ৫৫ টনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।

গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যালস লিমিটেডের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. মোস্তফা বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়টি একাধিকবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা আরএলএনজি সরবরাহে সমস্যার কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম জামালুদ্দিন জানান, গ্যাস না থাকায় বয়লার চালানো যাচ্ছে না। আর বয়লার বন্ধ থাকলে স্টিম উৎপাদন হয় না। স্টিম ছাড়া পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ফলে গত ১৫ দিন ধরে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের  প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় তিন লাখ টাকা।

তিনি বলেন, প্যারাসিটামল এমন একটি ওষুধ, যা শিশু থেকে শুরু করে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী সব শ্রেণির মানুষের জন্য প্রয়োজন হয়। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ওষুধ কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করছে।

শুধু গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যালস লিমিটেড নয়, গ্যাস সংকটে গাজীপুরের অনেক শিল্পকারখানাতেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও এক সপ্তাহ, কোথাও দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপে উৎপাদন সীমিত বা বন্ধ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অধিকাংশ মেশিন চালানো যাচ্ছে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন, উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে যাতে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। অন্যথায় শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরএলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ তৈরি হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad