দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্ত ৫৪৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪০ জন।
রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তি বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী একজন নারী।
বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের (সিটি কর্পোরেশন এলাকা ব্যতীত) হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ১০৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৯৬ জন, খুলনা বিভাগে ৬৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ৫৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ৫৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩,৬৪৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ (৮,৩৭৫ জন) এবং নারী ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ (৫,২৬৪ জন)। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যায় নারীদের হার বেশি; মোট মৃত্যুর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ (২৬ জন) নারী এবং ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ (১৮ জন) পুরুষ।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সর্বমোট ১২,৪৭৭ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১,১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাসভিত্তিক আক্রান্তের হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ১ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ৭,৫৪০ জন আক্রান্ত এবং ২৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যা বছরের মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। এর আগে জুন মাসে ২,৯০৭ জন আক্রান্ত ও ১৩ জনের মৃত্যু, মে মাসে ৭১৪ জন আক্রান্ত ও ১ জনের মৃত্যু, এপ্রিলে ৬৪০ জন আক্রান্ত (মৃত্যু ০), মার্চে ৩৫৩ জন আক্রান্ত (মৃত্যু ০), ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু এবং জানুয়ারি মাসে ১,০৮১ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সের তরুণরা ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বয়সসীমার মধ্যে এ বছর সর্বোচ্চ ১,৮৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।


