নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের সরকারি খাস জায়গায় গড়ে ওঠা বেদে পল্লীতে ববিতা আক্তার সুমাইয়া নামের এক নারী মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তার মাদক আস্তানা বাইরে থেকে আর দশটা সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের মতোই একটি ঘর। কিন্তু ভেতরে পা রাখলেই চোখ কপালে ওঠার দশা! বাঁশ আর চালের ছাউনির আড়ালে চলছে এক রাজকীয় ও বিলাসবহুল জীবনযাপন।
গরম থেকে স্বস্তি পেতে বসানো হয়েছে আধুনিক এয়ারকন্ডিশনার (এসি)। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি নজরদারি করতে পুরো আস্তানা ঘিরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রযুক্তির এমন অভিনব অপব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মাদক ব্যবসা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাজকীয় মাদক আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়াকে (৩৫) এর আগে বিভিন্ন সময়ে চাটখিল থানা পুলিশ অন্তত ৬ বার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে। সাতটি মাদক মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও একই ব্যবসা শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খোলস বদলে ফেলেন এই মাদক সম্রাজ্ঞী। এক সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা শুরু করলেও, বর্তমানে বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ববিতার মাদক আস্তানার কারণে চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের মুখে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বি কে হানিফ বলেন, ‘একজন মাদক কারবারি কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় মানুষ, সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে আসে। ববিতার এত শক্তির উৎস খুঁজে বের করা দরকার। তাকে যারা পেছনে থেকে সহয়তা দিচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান, সব বয়সের মানুষেরা এখানে মাদক কেনা-বেচার জন্য আসেন। দূর দুরান্ত থেকেও লোকেরা এখানে এসে মাদক নিয়ে যান এবং অনেকে এখানে বসে সেবনও করেন। ববিতার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষরাও অনেক সময় কথা বলতে ভয় পান।
চাটখিল পুলিশ জানায়, এই নারী মাদক ব্যবসায়ী যত বারই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন, প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময় তাকে আটক করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা মাদক ব্যবসায়ী ববিতার হামলার শিকার হয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘তার (ববিতার) নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে কিছুদিন আগেও একবার আটক করা হয়েছিল। তবে তার এরকম জীবন যাপন সম্পর্কে ধারণা ছিল না।’
এ দিকে এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে এবং এই অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।


