ঢাকার কেরানীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হাসান মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসান মোল্লার ছোট ভাই রাকিব হোসেন।
তিনি জানান, ঘটনার রাতে ঢাকা মেডিকেলে অপারেশন শেষে আইসিইউর প্রয়োজন ছিল তার। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার বিকালে মারা গেছেন।
নিহত হাসান মোল্লা (৫০) কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হজরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজিম উদ্দীন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হজরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করলে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলি তার বুকে লাগে। গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, তিনি ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ঢালি কান্দি এলাকায় এলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
ঘটনার পরপরই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জগন্নাথপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলির ঘটনা ঘটছে। গত ৮ জানুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বির নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন।
গত ৩ জানুয়ারি যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৩৫)। এ ছাড়া, গত বছরের ২০ নভেম্বর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া গুলিতে নিহত হন।


