ঢাকায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে ড্রাম থেকে রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. জারেজুল ইসলাম ওরফে জরেজ এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে শামীমা ওরফে কহিনুরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শনিবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিন এই আদেশ দেন। সন্ধ্যায় আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ।
শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুক্রবার প্রধান আসামি জরেজ মিয়াকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শামীমাকে র্যাব গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের পরিচয়ের সূত্রে শামীমার সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় শামীমার। এসবকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়।
একপর্যায়ে কদমতলী এলাকার একটি বাসায় শামীমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক জরেজ মিয়া প্রথমে আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ বাসার ভেতরে রেখে দেন। দুজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার দুদিন পর, ১৩ নভেম্বর, তারা লাশ বাসার বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরা করেন। পরে দুটি ড্রামে ভরে সিএনজিযোগে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোণে পানির পাম্পসংলগ্ন রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় ১৪ নভেম্বর আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়াকে।
১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে আশরাফুলের খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। আশরাফুল হক (৪২) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ব্যবসায়ী আশরাফুলকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।


