ইরানের সামরিক স্থাপনা ও রসদ সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর নতুন করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শনিবার ভোরে কুয়েতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে দেশটির পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান উড্ডয়ন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) দাবি, তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাহরাইনে শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান রাখা একটি স্থাপনা এবং একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের আরও হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করে আইআরজিসি বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বর্বরতা ঠেকানোর মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান না থাকায় আমাদের সামনে কোরআনের এই নির্দেশ অনুসরণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে, তোমরাও তার ওপর একইভাবে আক্রমণ করো।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং সামুদ্রিক সামর্থ্য লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে তারা টানা সপ্তম দিনের অভিযান শেষ করেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন হরমোজগান প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।এতে তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু ও একটি সড়ক সুড়ঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে ইরানের তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক শহরের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও পানি লবণমুক্তকরণ পাম্পে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলার কারণে ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে কুয়েতের পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় এটি ছিল দ্বিতীয় হামলা।
এর আগে শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সেদিন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর খামিরে সেতুগুলোতে হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। সেখানে একটি রেলস্টেশনও আক্রান্ত হয়েছে। আরও পূর্বে ইরানশহরে একটি বিমানবন্দর আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে শুক্রবার তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।


