আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ করেছে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।’
‘একটি রাজনৈতিক দল যদি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে প্রার্থী বাছাই করে এবং তা প্রকাশ্যে বলে, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত।’
আসিফ মাহমুদের ভাষায় এটি ‘কিংস পার্টির আচরণ’।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যাদের পরিবারে জামায়াত বা এনসিপির সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচন কারচুপির দিকে যাচ্ছে।’
এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের চাপের মুখে প্রত্যাহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা স্থানীয় বিএনপি প্রার্থীদের সহযোগিতা করছেন না। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেখানে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রকাশ্যে একটি দলের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যাদের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ করা, তারাই যদি ভোট চান, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট চুরি হবে এটা বলাই যায়।’
ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
এনসিপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনীকে সিভিল প্রশাসনের কল ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোধগম্য নয়। সেনাবাহিনীকে কেন্দ্রের বাইরে রেখে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, তারা আগস্ট–পরবর্তী সময়ে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশা করলেও বাস্তবে আবারও সহিংসতা ও হুমকির রাজনীতি ফিরে আসছে।
তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চার আসনে এনসিপির এক প্রতিনিধির ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জেলায় দলের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে প্রশাসন দায় এড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মনিরা শারমিন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিএনপির এক প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার ছাপালেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং সংবাদ প্রকাশের কারণে গণমাধ্যমকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেনাবেচা, কৃষিঋণের তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে একটি দলকে সহায়তা করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁসের অভিযোগও তোলা হয়।
এনসিপির নেতারা বলেন, এসব ঘটনায় প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি দলের পক্ষে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে এনসিপি জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে তারা রাজপথে আন্দোলনে যাবে। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।


