শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকালে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতে পদত্যাগ করলেও ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আমৃত্যু বেশ কিছু সরকারি সুবিধা পাবেন।
আইনে বলা হয়েছে, অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করা ব্যক্তিরা এসব সুযোগ-সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।
আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি তার সর্বশেষ মূল বেতনের (১ লাখ ২০ হাজার টাকা) ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাবেন। তবে তিনি চাইলে মাসিক ভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিকও বেছে নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে অবসরের এক মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অবসরের পর মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরসূরিরা আমৃত্যু এই সুবিধা পাবেন।
তবে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি বা পদ থেকে অবসর নিয়ে অবসরভাতা পেয়ে থাকলে, তিনি যেকোনো একটি ভাতা বেছে নিতে পারবেন।
দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজের সহায়তায় একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেন্ডেন্ট) পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, যার সার্বিক খরচ বহন করবে সরকার। পাশাপাশি তিনি পাবেন একজন মন্ত্রীর সমপরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সুবিধা। এ ছাড়া, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বাসস্থানে নির্ধারিত বিলসহ বিনামূল্যে টেলিফোন সংযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য যানবাহন ও দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনামূল্যে থাকার সুবিধা।
যেসব শর্তে সুবিধা বাতিল হতে পারে
অবসরভাতা পাওয়ার পর যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন পান–এমন কোনো নতুন পদে যোগ দেন, তবে তিনি এসব সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া, আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে দণ্ডিত হলে অথবা সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তার রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া অসাংবিধানিক বা অবৈধ ঘোষিত হলে সব সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।


