রাজধানীর বংশাল থানার মিরনজিল্লা হরিজন পল্লীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিনাক্ষী রানী ও বিকি বাবু ওরফে শ্রী বিকি হেলা।
সোমবার ডিএমপি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী নিশা রানী (২৮) তার বান্ধবী মিনাক্ষী রানীর সঙ্গে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখানে মিনাক্ষীর কথিত প্রেমিক বিকি বাবুর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে নাস্তা করেন এবং রমনা কালী মন্দিরে যান।
রমনা কালী মন্দিরে মিনাক্ষী ও বিকি বাবুর ঘনিষ্ঠ আচরণ দেখে নিশা মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে মন্দিরের পাশের একটি বাথরুমে গিয়ে নিজের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে মিনাক্ষী তাকে সেখান থেকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে যান। সেখানেও নিশা নিজের গলার নিচে নখ দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন।
পরে বিকালে মিনাক্ষীর স্বামী কর্মস্থলের উদ্দেশে কুমিল্লায় চলে গেলে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিকি বাবু মিনাক্ষীর বাসায় যান। বিষয়টি জানতে পেরে নিশাও সেখানে যান।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে বিকি ও মিনাক্ষী তাদের সম্পর্কের মধ্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিশাকে গালমন্দ ও অপমানজনক কথাবার্তা বলে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
এরপর ২ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টার দিকে বংশাল থানার সিটি কলোনিতে মিনাক্ষীর বাসায় তাদের সামনেই নিশা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আশপাশের লোকজন তাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ২৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বংশাল থানায় মামলা করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বংশাল থানাধীন এলাকা থেকে মিনাক্ষী রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের নাবিল হাইওয়ে হোটেল থেকে বিকি বাবু ওরফে শ্রী বিকি হেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


