বাংলাদেশ চীন ছাড়াও ভারত ও ইউরোপের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মনে করে। তবে একই সঙ্গে ভারত ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ, শক্তিশালী ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।’
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি সেমিনার কেন্দ্রে আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। কঠিন রাজনৈতিক সময়েও দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—উভয় পর্যায়েই বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে। বাংলাদেশ বরাবরের মতোই চীনকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়।’
‘বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য,’ যোগ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের মতো অনেক দেশই চীনের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের তরুণদের শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি বিনিময় ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমদানিনির্ভর সম্পর্ক নয়, জ্বালানি, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে পারে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী দিনে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক। এ বাস্তবতায় চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকার পর চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতসহ অন্য দেশগুলোও চাইলে এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম এ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সানজিদা ইসলাম তুলি, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


