নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছিনতাইয়ের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

নওগাঁয় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছিনতাইয়ের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১
ছিনতাই ও খুনের দায়ে অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় হাসিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম। এর আগে, একটি প্রতারক চক্র তাকে অজ্ঞান করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার লুট করে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলার পর তদন্তে নামে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে মুখে মাস্ক, চোখে চশমা এবং সাথে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে নওহাটা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তিনি বিভিন্ন মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সর্বস্ব লুট করতেন।

ঘটনার দিন শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সাথে পরিচিত হন হাসিনা। একপর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফাতেমা বেগমকে সাথে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তিনি। এরপর নিজের কাছে থাকা ফলের জুসের সাথে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে খাইয়ে দেন। ফাতেমা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান হাসিনা।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরও জানান, লুট করা স্বর্ণালংকারগুলো শহরের ‘জোয়ারদার জুয়েলার্স’-এর ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad