চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কলাম ও কাঠামো এখন অত্যন্ত দুর্বল। ভবনের সামনে সতর্কতামূলক ব্যানার টানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিস্তারিত সার্ভের পর ভবনটি অপসারণ করা হবে কি না- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ‘
এরই মধ্যে ঘটনা তদন্তে ও আগুনের কারণ খুঁজতে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং ইপিজেড কর্তৃপক্ষ।
সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভবনটির চার তলা পর্যন্ত অংশ গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। এছাড়া ভবনের নকশা ও কাঠামো কোড অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় আগুন নেভাতে আমাদের প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে।’
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করেছেন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ভবনটির ভেতরে থাকা যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সবহান বলেন, ‘আগুন লাগার পরপরই পুরো এলাকা কর্ডন করে শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের সব কারখানা ফায়ার কমপ্লায়েন্সের আওতায় রয়েছে এবং এই ভবনেও কিছুদিন আগে ফায়ার ড্রিল পরিচালনা করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ওই এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস তোয়ালে, ক্যাপ এবং জিহং মেডিকেল সার্জিক্যাল গাউন তৈরির কারখানা। কারখানা ভবনটি সাততলার। দুটি কারখানার গুদামই সাততলায়, যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে ছিল না। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ২৫টি ইউনিট অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের রোবোটিক যন্ত্রপাতিও ব্যবহৃত হয়। রাতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আগুন নেভাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।


