প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অশালীন স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় সংযম ও ক্ষমাশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা সভ্য সমাজে ব্যবহার করা যায় না। আমাকে গালাগালি করা হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করা হয়েছে। তবু, আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া ওই বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েক দিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করলেও, মোদি বলেন, ‘গালাগালি দিয়ে কখনও কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। শাস্তির বদলে পথভ্রষ্ট তরুণদের সঠিক দিশা দেখানোই সমাজের দায়িত্ব।’
এর আগে, গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে ২৫ বছর বয়সী এক নারী আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধ বা কঠোর শাস্তির পক্ষে নন বলে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তরুণদের ভুল করার পাশাপাশি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত।’
‘শৈশবে ভুল হয়, আর সেই সময়ই ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে। বয়সে তরুণ মানেই, তাদের আরও শেখার সুযোগ থাকা। সমাজে ক্ষোভ আছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এসেছে এই সন্তানদের বুকে টেনে নিয়ে তাদের সঠিক পথ দেখানোর। তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। তাদের পথ দেখানো আমাদের কর্তব্য। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নিয়ে হয়রানি করলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না,’ যোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তদের তিনি ক্ষমা করতে চান এবং সমাজকেও একই মনোভাব পোষণের আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজের কাছেও আমার অনুরোধ, আমার এই আহ্বান গ্রহণ করুন। গালাগালি দিয়ে কখনও কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। যারা পথ হারিয়েছে, তাদের সঠিক দিশা দেখাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি—ভারতের জন্য কাজ করি।’
এদিকে, অভিযুক্ত ওই নারীর বিরুদ্ধে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু এটি জিরো এফআইআর, তাই প্রথমে ঘটনাস্থলের বাইরে মামলা নথিভুক্ত করা হলেও পরে তদন্তের জন্য তা দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, এই মামলা হওয়ায় সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি বলেন, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হতে পারে, তবে শুধুমাত্র বক্তব্যের কারণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়। কেউ যদি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানহানির মামলা করতে পারেন। কেবল আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’


