জুলাইয়ে নিহতদের স্মরণে জাবিতে ছাত্রদলের আলোচনা সভা

জুলাইয়ে নিহতদের স্মরণে জাবিতে ছাত্রদলের আলোচনা সভা
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের সন্ধ্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাভার-আশুলিয়ার মানুষের অবদান দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। তাই শহীদদের আত্মত্যাগকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের সুযোগ নেই।’ তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটি ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির চর্চায় এগিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দমন-পীড়নের রাজনীতি পরিহার করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কথার সঙ্গে বাস্তব জীবনের আচরণের মিল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। পাশাপাশি দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, ছাত্রদল সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতিতে বিশ্বাসী। হল দখল, গেস্টরুম সংস্কৃতি, সহিংসতা কিংবা সন্ত্রাসভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও মব সংস্কৃতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণ করে গণরুম, গেস্টরুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনমুক্ত একটি শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে ছাত্রদল কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সোহেল রানা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad