ভারতে আগুন ও মন্দিরে পদদলিত হয়ে ১৪ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু

ভারতে আগুন ও মন্দিরে পদদলিত হয়ে ১৪ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু
তীরধামের হোটেলে আগুনের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আগুন ও পদদলনের আলাদা দুটি  ঘটনায় অন্তত ১৪ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি হোটেলে আগুন লেগে সাতজন নিহত হন। একই দিনে বিহারের লখিসরাই জেলায় অশোক ধাম মন্দিরের বাইরে পদদলিত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়। দুই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

তারাপীঠে হোটেলে আগুন

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি চারতলা হোটেলে আগুন লাগে। এতে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলটির নিচতলায় আগুন লাগে। সে সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দমকল বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

বিহারে মন্দিরের বাইরে পদদলিত

অন্যদিকে, বিহারের লখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের বাইরে পদদলিত হয়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন

সোমবার শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছিল। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর সেটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মানুষের ওপর পড়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় পদদলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

লখিসরাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার দিকে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছালে মন্দির এলাকায় ভক্তদের ভিড় আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত চাপের কারণে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান।

তিনি বলেন, হঠাৎ একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর সেখানে বিদ্যুতের তার পড়ে গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, সেটি বৈদ্যুতিক তার নয়, সাধারণ কোনো তার ছিল। তবে এ গুজবের কারণে নারীদের সারিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হলে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যান।

লখিসরাইয়ের মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এর পরই পদদলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অশোক ধাম মন্দিরটি শ্রী ইন্দ্রদামনেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। মন্দিরটিতে একটি বড় শিবলিঙ্গ রয়েছে। শ্রাবণ মাসে এখানে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad