ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
নিহতরা হলেন-মোরছালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪০)। মোরছালিন ওই ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত নবীর হোসেন উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। দু’জনের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বিএসএফের গুলিতে একাধিক বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। তবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
নিহত মোরছালিনের পরিবার জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খামারহাটি সীমান্তে নিয়ে যায়। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে মরাদেহ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রায় ১৫ বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চালানের উদ্দেশে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। পরে মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তাদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


