সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন নিয়ে দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই আইনের কারণে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের মতো সাবেক মালিকরা সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। এই দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত শুক্রবার সংসদে এই বিলটি পাস হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন এই আইনটি আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর ফেরার পথ করে দেবে। বিতর্কের মূলে রয়েছে আইনের নতুন যুক্ত হওয়া ১৮-এ ধারা। অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে এই ধারাটি একীভূত হওয়া…
Author: তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ দীর্ঘসময় ধরে স্থবির হয়ে থাকায় সরকার এখন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাতের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপকে স্পষ্ট করে তুলছে। পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের এই পর্যায়েই সরকার ইতিমধ্যে এক লাখ ১২ হাজার ১৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে। ঋণ গ্রহণের এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এমনকি মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৯১…
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে রিজার্ভ চুরির মামলা এবং চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি আদালত। আগামী ১০ এপ্রিল এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর একটি অভ্যন্তরীণ দলিল অনুসারে, আইনজীবী ধর্মেন্দ্র নায়ার এবং সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন ১১ মার্চ পাঠানো ইমেইলে আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে মনসুরের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রস্তুতির জন্য পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দলিলটিতে বলা হয়েছে, আহসান এইচ মনসুর পূর্বে আদালতের অনুরোধে একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন এবং এখন প্রস্তুতিমূলক অধিবেশনের পর ৬ ও ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগকৃত আইনজীবী ফার্ম বিএসএনকে এবং কেয়স্টোন দ্বারা আয়োজিত…
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে, আর নগদ ঋণ আদায় নেমে এসেছে শূন্যে–কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকের অধীনে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার এই অবনতি মার্জার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সর্বশেষ হিসাব চূড়ান্ত করেন প্রশাসক মো. সালাহ উদ্দীন, টাইমসের হাতে থাকা নথিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সংকটাপন্ন ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল করে মার্জারের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সম্পদের মান ও আদায়–দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে খারাপ হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর প্রশাসক নিয়োগের সময় এসআইবিএলের খেলাপি ছিল…
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু প্রবৃদ্ধি বা ব্যবসায়িক বিস্তার মূল লক্ষ্য নয়। বছরের পর বছর সুশাসনের অভাব, ঋণ কেলেঙ্কারি আর শৃঙ্খলার অভাবে থাকা এ খাতের এখন আসল পরীক্ষা হলো বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনমানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্প্রতি টাইমস অব বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মোখলেসুর রহমান এমন মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তার মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান নড়বড়ে অবস্থায় টিকে থাকতে হলে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ১৩ বছর পূর্ণ করা এসবিএসি ব্যাংক এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই তাদের কৌশল সাজিয়েছে। ব্যাংকটি এখন আগ্রাসীভাবে শাখা না বাড়িয়ে…
ঈদযাত্রা সহজ করতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সারা দেশের সব ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল নিয়ে চলা জনভোগান্তি আপাতত দূর হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী শনিবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। রোববার সকাল দশটায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার ঈদ উপলক্ষ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের ওপর থাকা বিদ্যমান রেশনিং প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় এ বিষয়ে…
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে যখন বাংলাদেশ নতুন পথে এগোতে শুরু করেছে, তখনও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অন্দরমহলে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ কি আবার দেশের অর্থনীতিতে ফিরে আসার পথ খুঁজছে? আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী দেশ ছাড়েন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ছিল এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নতুন সরকারের ওপর ভর করে এস আলম গ্রুপের ফিরে আসার জল্পনার পেছনে রয়েছে একাধিক ঘটনা ও ইঙ্গিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শোনা যায় – বিএনপির প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ আবারও…
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকাণ্ডে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আস্থায় চিড় ধরেছে ও সরকারের মতিগতি বোঝা দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এই সরকার কীভাবে দেশ চালাতে চায়, সেটি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে আকস্মিক বিদায় করে ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সোয়েটার কারখানার মালিক মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। এর মাত্র দুই মাস আগেই নীতি সহায়তার আওতায় নিজের প্রতিষ্ঠান হিরা সোয়েটার্স লিমিটেডের খেলাপি ঋণ নিয়িমিত করিয়ে নিয়েছিলেন একাউন্টিং ও কস্ট ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রিধারী এই ব্যবসায়ী। দেশের অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়ানোর জন্য যখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক…
দীর্ঘদিনের ভেঙে পড়া সুশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবিত ঋণ বিতরণ এবং একের পর এক নিয়ন্ত্রক ছাড়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাজার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যেই অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন নীতিগত অনিশ্চয়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার সতর্কবার্তা, আকস্মিক ও পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত এখন আর্থিক স্থিতিশীলতার বড় হুমকি হয়ে উঠছে। টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে হলে নেতৃত্ব নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই, ঋণের প্রকৃত মালিকানা প্রকাশ, ব্যাংকগুলোতে শর্তসাপেক্ষ পুনঃমূলধন যোগান এবং দ্রুত মন্দ ঋণ নিষ্পত্তির মতো পদক্ষেপ নিতে…
ই-কমার্সের আড়ালে এক বিস্তৃত পঞ্জি ও এমএলএম নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রমিজ মার্ট। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উচ্চ মুনাফার প্রলোভনে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৫২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে চীন থেকে পণ্য আমদানি করে ব্যবসায়ের কথা বললেও জানা গেছে, প্রকৃত পণ্য বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার। বাকি অর্থের হদিস না মেলায় নগদহাট-পরবর্তী এই নতুন প্ল্যাটফর্ম ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে মাসুদ আলমের নাম, যিনি আগে বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নগদহাটের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে প্রমিজ গ্রুপের…

