ঈদযাত্রা সহজ করতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সারা দেশের সব ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল নিয়ে চলা জনভোগান্তি আপাতত দূর হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী শনিবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। রোববার সকাল দশটায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার ঈদ উপলক্ষ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের ওপর থাকা বিদ্যমান রেশনিং প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।’
এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, শনিবার রাত থেকে গণপরিবহনের তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘দূরপাল্লা ও গণপরিবহনে তেলের রেশনিং শনিবার রাত থেকে থাকছে না। রাত থেকে পর্যাপ্ত তেল পাবে বাসগুলো।’
তবে এই বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। মনির হোসেন চৌধুরী টাইমসকে জানিয়েছেন, রোববার থেকে রেশনিং তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে ব্যক্তিগত বাহনের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হবে সেটি স্পষ্ট করেননি জ্বালানি বিভাগের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করে গ্রাহক। অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে এ সময় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট তৈরি হয়। এই প্রেক্ষিতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে সারা দেশে তেলের রেশনিং শুরু করে সরকার।
ওইদিন থেকে সকল ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে দিনে দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পেরেছে। পরবর্তীতে রেশনিং ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়। রাইডশেয়ারিং চালকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেলের জ্বালানির সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়।
রেশনিং ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নিতে পারছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল। এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে নিতে পারছে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারছে।
একই সঙ্গে সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বিবেচনায় এখন সেই রেশনিং ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে ঈদের পরে আবার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।


