বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের আমদানি করা জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকা পড়ে আছে। ভাঙার জন্য এটিকে সৈকতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। ‘মেমেই’ নামের এই জাহাজটি আমদানি করেছে এসএন কর্পোরেশন নামের একটি জাহাজ ভাঙা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী। জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। তবে এর মাত্র কয়েকদিন পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জাহাজটির বিরুদ্ধে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে এক নজিরবিহীন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রধান জাহাজ ভাঙার কেন্দ্রে…
Author: তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের
পাঁচ বছরের মধ্যে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, কম মূল্যস্ফীতি, বাড়তি বিনিয়োগ ও শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামোর পথে নেওয়ার রূপরেখা তৈরি করেছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় রূপরেখাটি উপস্থাপন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি পৌঁছাবে ট্রিলিয়ন-ডলারের পথে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে, বিনিয়োগ উঠবে জিডিপির ৪০ শতাংশে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত পৌঁছাবে ১১ শতাংশে এবং মূল্যস্ফীতি নেমে আসবে ৫ শতাংশে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, দুর্বল রাজস্ব কাঠামো ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে এই পরিকল্পনা উচ্চাভিলাষী। ‘পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)’ নামের পরিকল্পনাটিতে বলা হয়েছে,…
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চরিত্র হারিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে এবং অতীতের মতো ঋণের নামে অর্থ লুট, পাচার ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। এর ফলে দেশের মুদ্রানীতি দিন দিন অকার্যকর হয়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক-নির্ভরতা বাড়ায় শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট গড়ে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠনের ১০০ দিন না যেতেই সেই আশা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র…
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের জন্য তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা দিতে চাপ দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ব্যাংক তহবিলের এমন ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনটি সংস্থাকে দেওয়া হয় প্রায় ৪ কোটি টাকা। ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর প্রাপ্ত নথি ও ডজনখানেক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই অর্থ পেয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (স্যাড) ফাউন্ডেশন এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। নথিপত্র অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সুজনকে আড়াই কোটি কোটি টাকা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে ২১ লাখ টাকা দিয়েছে। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের…
চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জের একটা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের সকালটা ছিল অন্য যেকোনো দিনের মতোই সাধারণ। সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলছিলেন, অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে মালিকানা গোপনের এক গল্প। সেখানে ১১ কোটি টাকা মূল্যের আটটি ফ্ল্যাট এমন ব্যক্তিদের নামে কেনা হয়েছে, যাদের ওই এলাকার কোনো বাসিন্দাই চেনেন না। আইএফআইসি ব্যাংকের নথিপত্রে ফ্ল্যাটগুলোর মালিক হিসেবে ওঠে এসেছে দুটি নাম: মো. সহিদুর রহমান এবং মো. জুলফিকার হায়দার। কাগজে-কলমে তারা বড় উদ্যোক্তা। কিন্তু বাস্তবে তারা মাসিক মাত্র ২৩,০০০ টাকা বেতনের কর্মচারী। অথচ তাদের নামে মোট ৭ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। কাগজ-কলমে…
বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি এখন আর কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সরকারের কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং সংস্কার কাজে দৃশ্যমান ঘাটতি থাকায় আগামী জুনের কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আইএমএফ এখন আর শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়। তারা এখন সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী প্রমাণ চাইছে। ওয়াশিংটনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো গ্যারান্টি দিতে পারেননি। এক ব্রিফিংয়ে…
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি এখন আর কেবল অর্থনৈতিক সূচকের পরীক্ষায় আটকে নেই, বরং তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বর্তমান সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ–এর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ওপর। বিএনপি সরকারের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি সামনে আসায় জুনের কিস্তি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। কারণ, আইএমএফ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান ও স্থায়ী সংস্কারের প্রমাণ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়াশিংটনে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঋণ পাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না দিয়ে কেবল ‘আশা’ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রকাশ্য ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজস্ব…
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে স্পষ্ট পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানির দাম, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের নীতিতে একের পর এক সমন্বয় এখন আইএমএফের শর্ত পূরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের কিস্তি ছাড় ও নতুন বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার এখন নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। এমনকি কিছু জায়গায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ঘোষিত কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প থেকেও সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে। আইএমএফ থেকে চলমান ঋণ প্যাকেজের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ও বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও ২ বিলিয়ন ডলার আগামী জুনের মধ্যে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ঋণ পেতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সবচেয়ে…
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় ও নতুন বাজেট সহায়তার বিষয়টি আটকে আছে নীতিগত শর্ত পূরণের প্রশ্নে। তবে বাংলাদেশ ঋণ পাচ্ছে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার, জ্বালানি মূল্যে ভর্তুকি ও মুদ্রার বিনিময় হারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের গতিপথ নির্ধারণ করবে চলমান ঋণ প্যাকেজের দুই কিস্তির ছাড় ও নতুন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তিসহ আগামী জুনে দুই কিস্তির এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট…
বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি ও সারে বাড়তি ভর্তুকির প্রয়োজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সময়মতো বৈদেশিক সহায়তা না পেলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বাজেটের বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরে সরকারকে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিশাল অংকের অর্থের পূর্ণ সংস্থান নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৭০০…

