মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকা আমদানি করা জাহাজ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকা আমদানি করা জাহাজ
ছবি: মেরিন ট্র্যাকার ডট কম থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের আমদানি করা জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকা পড়ে আছে। ভাঙার জন্য এটিকে সৈকতে ভেড়ানো যাচ্ছে না।

‘মেমেই’ নামের এই জাহাজটি আমদানি করেছে এসএন কর্পোরেশন নামের একটি জাহাজ ভাঙা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী। জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। তবে এর মাত্র কয়েকদিন পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জাহাজটির বিরুদ্ধে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে এক নজিরবিহীন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রধান জাহাজ ভাঙার কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরও জাহাজটি ইয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারছে না।

এসএন কর্পোরেশনের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড-১ এর ব্যবস্থাপক নাজমুল হোসেন খান মঙ্গলবার টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, জাহাজটি বর্তমানে সমুদ্রের বুকেই নোঙর করে আছে।

তিনি বলেন, “মেমেই জাহাজটি এখন বহির্নোঙরে রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে আমরা জাহাজটিকে সৈকতে ভেড়াতে পারছি না। তাই এসএন কর্পোরেশন জাহাজটিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।”

তবে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল-এর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, মেমেই নামের এই কেমিক্যাল ট্যাংকারটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৪৪ হাজার ৮০০ টনের এই ট্যাংকার জাহাজটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগ মুহূর্তে ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল।

নৌপরিবহন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ট্রেড উইন্ডস’ জানায়, জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। এর ঠিক ছয় দিন পর ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মেমেই জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহন করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য কেবল জাহাজটিই ছিল না, বরং এর হংকং-ভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ওয়াশিংটন এভার শাইনিং-এর নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরও একটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই জাহাজটির বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে একাধিকবার ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বহনের অভিযোগ রয়েছে।

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেমেই জাহাজটি ভাঙার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর