Author: শাহরিয়ার মাহী

নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর মানুষের অসচেতনতায় ঢাকার ফুটপাতগুলো পথচারীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি কখনও। যেন এর আরও অবনতি হচ্ছে দিনে দিনে। পরিস্থিতি এমন যে, যাদের হাঁটার জন্য এটি নির্মাণ করা, সেই পথচারীই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় থাকে। কোথাও হকার, কোথাও দোকানের বর্ধিতাংশ, কোথাও গাড়ি মেরামত, কোথাও পার্কিং; মোটরসাইকেল চলাচল আরেক বিরক্তির কারণ, বাইসাইকেল চালকদের যেন ধারণাই নেই সেখানে তাদের ওঠার কথা নয়। এর মধ্যে নগর কর্তৃপক্ষ আবার দখলবাজিকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে, যেখানে ফুটপাতকে ভাড়ার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি উচ্চ আদালতের নজরে এসেছে, সর্বোচ্চ আদালত থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে ফুটপাতে মোটরসাইকেল ঠেকাতে দেওয়া আদেশ এক দশকেরও বেশি সময় পরে…

Read More

তীব্র ভোগান্তির মধ্যেও লাখো মানুষের ঈদযাত্রায় যে বিষয়টি ফুটে ওঠে, তা হলো এই নগর ছেড়ে যাওয়ার স্বস্তি। জীবিকা বা অন্য কারণে এই শহরে থাকতে বাধ্য হওয়া দুই কোটি মানুষ যে এই শহরের জীবন উপভোগ করেন না, সেটিও থাকে তাদের প্রকাশে। এই শহরের জীবন তাদের কাছে যন্ত্রণাক্লিষ্ট। এখানে পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ সুবিধার অভাব, নেই বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও। পরিবেশ দূষণের কারণে ঘরের বাইরে যাওয়াই এখানে যন্ত্রণার আরেক নাম। নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকার মানুষ যে চাপের মধ্যে বসবাস করছে, সেটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার সমস্যা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও এককেন্দ্রিক উন্নয়নের ফল।’ কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা…

Read More

রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা হিসেবে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পথ হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময়ই এর লক্ষ্য ছিল নগরবাসীকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন সেবা দেওয়া। কিন্তুসেই লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে এখন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে বাস। পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের অভাবে রাজধানীবাসীর যাতায়াত যেখানে কঠিন হয়ে উঠেছে, সে সময় যাত্রী পরিবহনের বদলে অফিসগামীদের আনা নেওয়ার কাজেই নিয়োজিত বিআরটিসির বহরের একটি বড় অংশ। বিআরটিসির বাসের আয়ু এমনিতেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম, কখনো কখনো তা এক তৃতীয়াংশেরও কম। বর্তমানে সারা দেশে কোম্পানিটির সচল বাসের সংখ্যা এক হাজার ১৫০টি। এর প্রায় ৭০ শতাংশ চলে ঢাকায়। কিন্তু ঢাকাবাসী এর…

Read More

কোরবানির ঈদে প্রায় প্রতি বছর যেসব কারণে চামড়ার দরপতন ঘটে, সেগুলোর প্রতিটিই এবারও রয়ে গেছে। পুরোনো সংকটের পাশাপাশি তীব্র গরমও এবার সমস্যা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটির আগে আগে পুরান ঢাকার পোস্তায় কাঁচা কামড়া ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে জানা গেল, গত বছর তো বটেই আগের বহু বছরের বকেয়া জমে শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগেও ঈদের চামড়া সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও এখন সেই চিত্র আর নেই। প্রায় প্রতি বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে আগ্রহ হরিয়ে ফেলছেন। গত বছর ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহরে চামড়া ফেলে দেওয়ার…

Read More

ঢাকার চাকরিজীবী নাহিয়ান আহমেদের ফোনে শনিবার দুপুরে হঠাৎ একটি মেসেজ আসে +63 948 931 5208 নম্বর থেকে। তাতে লেখা, ‘জরিমানা নম্বর: 2026-BD-47821039V। ইন্টেলিজেন্ট ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থা অনুযায়ী আপনি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। একটি নির্ধারিত এলাকার মধ্যে আপনার যানবাহনটি অবৈধভাবে চালানোর বিষয়টি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। অনুগ্রহ করে ২৩ মে, ২৪:০০ টার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগ ইন করে জরিমানা পরিশোধ করুন।’ আইন অনুযায়ী তারা বকেয়া জরিমানা পরিশোধ এবং যানবাহন জব্দসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় সেই বার্তায়। জরিমানা পরিশোধ করতে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া হয়। পুলিশের সাইবার শাখার এসআই অলোক কুমার বিশ্বাস সতর্ক করে বলেছেন, এই লিংকে প্রবেশ বিপজ্জনক…

Read More

ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি বেশ কিছু ট্রেন। শনিবার সকালে কমলাপুর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীরা ব্যাগ ও লাগেজ হাতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরায় ট্রেনের এই বিলম্ব নিয়েও বেশিরভাগ যাত্রীর চোখে-মুখে ছিল আনন্দ। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে অন্তত ৯টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে এই ৯টি ট্রেনের মধ্যে সাতটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে স্টেশন ছাড়ে। ট্রেনগুলো সর্বনিম্ন ১৫ মিনিট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পৌনে দুই ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় বিলম্বে যাত্রা শুরু করেছে। অবশ্য রেল…

Read More

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোগান্তি এড়াতে আগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। সেই ঘরমুখো যাত্রার সবচেয়ে বড় প্রতিচ্ছবি এখন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে ঘরে ফেরার জন্য প্ল্যাটফর্মজুড়ে মানুষের ভিড়, মাইকে বিরতিহীন ঘোষণা, আর চোখেমুখে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। সকাল থেকে স্টেশনে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। কারও হাতে বড় ট্রাভেল ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাকপ্যাক, কারও হাতে খাবারের প্যাকেট, কোলে ঘুমন্ত শিশু, আবার অনেকের হাতে ছাতা। সকালের পরপর বৃষ্টি নামায় প্ল্যাটফর্মের মেঝেতে পত্রিকা বিছিয়ে এবং সিটে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। মাঝেমধ্যে মাইকে ট্রেন আসার ঘোষণা আসতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় দৃশ্যপট। দ্রুত ব্যাগ কাঁধে তুলে নেন…

Read More

রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনের গাউসনগর এলাকায় দুই মোটরসাইকেল চালক নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলেন। তাদের কথায় ফুটে উঠছিল এক ধরনের সতর্কতা। একজন অন্যজনকে বলছিলেন, এখন থেকে খুব সাবধানে চলতে হবে। সড়কে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, কখন যে মামলা দিয়ে দেয় তার কোনো ঠিক নেই। যান চলাচলের দিক দিয়ে বিশৃঙ্খল এই মহানগরে চালকদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে অতীতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সেসব প্রচেষ্টার অনেকগুলোই সফল হয়নি। এবার চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে প্রযুক্তির ওপর ভরসা করেছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির প্রথম চার দিনেই বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এরই মধ্যে এই প্রযুক্তির সুফল মিলতে শুরু করেছে। এআই নির্ভর…

Read More

শহর যখন আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে, পুলিশ সদস্যরা তখনো তাদের দায়িত্বের জায়গায় অনড়। সারা রাত ডিউটি শেষ করে ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আবার রাজপথে দেখা যায়। ঈদ, পূজা কিংবা পহেলা বৈশাখের মতো বড় উৎসবগুলোতে যেখানে সাধারণ মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে, সেখানে কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এমনকি পরিবারের কারও মৃত্যু হলেও মাত্র এক বা দুদিনের ছুটি মেলে, যা আবার বছর শেষে তাদের বার্ষিক ছুটির হিসাব থেকেই কেটে নেওয়া হয়। অস্বাস্থ্যকর ব্যারাক জীবন, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া আর টানা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টার হাড়ভাঙা খাটুনিই এখন পুলিশ সদস্যদের জীবনের রূঢ় বাস্তবতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের…

Read More

রাজধানীর মিনিবাস চালক সাইদুল ইসলাম প্রতিদিন ১৭ ঘণ্টা স্টিয়ারিং ধরে থাকেন। তার নেই কোনো নির্দিষ্ট বেতন, নেই ছুটি। এমনকি অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনায় আহত হলেও তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। সাতসকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় বাস চালান তিনি। প্রতি বছর মে দিবসের মিছিলে অংশ নিলেও নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন নিয়ে সন্দিহান এই চালক। সাইদুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মে দিবসে আমাদের সামনে রেখে মিছিল করানো হয়, কিন্তু বছরের বাকি দিনগুলোতে আমাদের খোঁজ কেউ রাখে না।’ সাইদুল ইসলামের এই ক্ষোভ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের একটি বড় চিত্র। এই খাতের চালক ও সহকারীদের কোনো ন্যূনতম মজুরি নেই। নেই নির্দিষ্ট…

Read More